অবৈধ শরণার্থী বাংলাদেশের বিপদ !

 অবৈধ শরণার্থী বাংলাদেশের বিপদ !

সজীব ওয়াফি : মায়ানমারের আরাকান রাজ্য মুসলিম রোহিঙ্গা গণহত্যা, গণধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালাও পোড়াও লুণ্ঠন চলছে। কখনো কি চিন্তা করেছেন আরাকানের এ রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রধান কারণটা কি ??
প্রধান কারণ রোহিঙ্গারা মুসলিম এটা কিন্তু না, বরং আরাকান সহ পুরো মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ছাড়াও মুসলিম আছে। তাদের উপরে কিন্তু সামরিক বাহিনী আরসা নির্যাতন করছে না, জ্বালাও পোড়াও চালাচ্ছে না, গণহত্যার সিকি ভাগও তাদের উপরে নাই। শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের উপরে গণহত্যা-নির্যাতন, দেশ ত্যাগের মত ঘটনা ঘটছে।
সর্বপ্রধান এবং অন্যতম কারণটা হল রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের আদিবাসী গোষ্ঠি।.
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখেন- পার্বত্য চট্টগ্রামেও আদিবাসীরা বসবাস করেন, কিন্তু সংবিধান তাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দেয় নাই। দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি নামে। তাদেরকে আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে সমস্ত নাগরিক অধিকার তাদের দিতে হবে, তাদেরকে দিতে হবে ভূমি অধিকার। কিন্তু এ রাষ্ট্র তাদের আদিবাসী হিসেবে অস্বীকার করেছে। এখনো প্রায়ই গনহত্যা চলে তাদের উপর। ফলপ্রসূতিতে তারা গেরিলা বাহিনীও তৈরি করেছিল এম এন লারমা, শন্তু লারমার নেতৃত্বে।
মূলে কিন্তু এই ভূমি আইন, ভূমি অধিকার। মিয়ানমারেও ঠিক একেই সমস্যা। রোহিঙ্গাদের আদিবাসী স্বীকৃতি না দেয়ায় তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত, ভূমি থেকে বহিষ্কৃত করে যে কোন সময় এবং শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত নেত্রী অশান্তি তৈরীতে বলতে সাহস পায় রোহিঙ্গারা বাঙালি সন্ত্রাসী !!
নির্যাতন হত্যা সহ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই একটা মানুষ তার নিজ গৃহ ত্যাগ করে। নতুবা কে চায় বাড়িঘর ছেড়ে উদ্দেশ্যহীন কোন দেশে রিফিউজি হতে?.
আমরা মানবিক বিচারে শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বললাম, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সরকার সীমান্ত খুলে নাই বরং রোহিঙ্গারা অবৈধ পথে প্রবেশ করেছে। ওপারে যখন গণহত্যা চলছে তখন শরণার্থীদের এ ঢল ফেরানো অসম্ভব কারণ ঈশ্বর সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দেন নাই, যেমনটা বাতাস এবং পানি আটকানো যায় না।
অনেকে শঙ্কিত- বাংলাদেশের শরণার্থী ব্যয়ভার বহন করার মত সক্ষমতা নাই। যে সব অতিবুদ্ধিজীবীরা গণহত্যার পক্ষে দাড়িয়ে শরণার্থী প্রবেশের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন বাংলাদেশের সক্ষমতা নাই তারা কি জানেন শরণার্থীদের ব্যয়ভার কোথা থেকে আসে?
বিহারি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা থেকে কত টাকা পকেটে ভরে বাংলাদেশ??.
সীমান্ত যখন খুলে নাই তখন রোহিঙ্গারা অবৈধ প্রবেশ করেছে। অবৈধ প্রবেশ মানে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই, নিবন্ধিত হয় নাই, কোন নিয়ন্ত্রণ ক্যাম্প হয়নি। সুতরাং জাতিসংঘ থেকে অর্থনৈতিক সাহায্যও না আসা অস্বাভাবিক কিছু না। তখন জীবনের তাগিদে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পরবে স্বাভাবিক। নিবন্ধন না থাকায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততা করে যখন ফেরত পাঠানো হবে তখন কিভাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে !
ভেবে দেখেছেন সীমান্ত খুলে দেয়ার বিপক্ষে গিয়ে কতবড় ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বাংলাদেশের, বাংলাদেশের অর্থনীতির?
সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠি রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগাতে বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয় আর যারা ইনিয়ে বিনিয়ে শরনার্থী রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের বিরোধিতা করেন উভয়পক্ষই রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার সাক্ষাৎ মিত্র, বাংলাদেশের অর্থনীতির শত্রু।
দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষ একদিন না একদিন বিদ্রোহ করবেই। রোহিঙ্গারাও ঘুরে দাড়িয়েছে এবার। ঈশ্বর ওদের পক্ষে। রোহিঙ্গাদের সমর্থন॥

সূত্র : লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.