ফ্যানা তোলা আবেগ বন্ধ হোক …

 ফ্যানা তোলা আবেগ বন্ধ হোক …

রাজু হামিদ : ফেইসবুকে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে, যার শিরোনাম ‘আমরা মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাই’। অন্য এক ফেইসবুক বন্ধু পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ের জন্য স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অন্যদিকে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ মিয়ানমারের গণহত্যার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে একটি সমাবেশ করেছে। তা নিয়ে আমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়ার জবাবেই এই লেখা। শিরোনামে আমি এমন আবেগকে ফ্যানা তোলা বলেছি এই কারনেই যে, দু-চার দিন পর এদের আবেগ আবারো ফুস হয়ে যাবে।

প্রথম ইভেন্টটি যিনি খুলেছেন তিনি নিজেকে একজন অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে দাবি করেছেন। অনলাইনের এই যুগে অবশ্য সবাই অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট। কেউ আর মাঠে নামতে চায় না। ফেইসবুকেই দুনিয়া উদ্ধার করে।

ইভেন্ট মডারেটরের দাবি – ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি লোক ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত আছেন। আরো ২৮ হাজার লোক আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে অন্য এক ফেইসবুক বন্ধু পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ের জন্য স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এবং সেখানেও অনেকেই সমর্থণ জানিয়েছেন।

বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আনলাম এই কারনে যে – দয়া করে ভাই মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইভেন্ট খোলা ভাইটি আগামী ১ অক্টোবর শাহবাগে প্রজন্ম চত্ত্বরে আগ্রহীদের জমায়াতের স্থান নির্ধারণ করেছেন। তারা মিয়ানমারে যুদ্ধে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি প্রার্থণা করেছেন। একইসাথে তাদরকে যুদ্ধের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।

আমার জানা নেই – ওই ইভেন্টে কতোজন আরাকান রাজ্যে নির্যাতিন মানুষের জন্য যুদ্ধে যেতে রাজি আছে। আমার ধারনা সংখ্যাটি খুবই সামান্য। অধিকাংশ লোক যুদ্ধে যেতে চাচ্ছে – কেননা রোহিঙ্গাদের সাথে মুসলিম নামটি যুক্ত আছে বলেই।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে – ওই ইভেন্টের কতোজন লোক এর আগে কক্সবাজারের রামু, রাঙামাটির লংগদু কিংবা সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় যুদ্ধ করেছেন। বন্যায় সহায়তা করলেও আমি নিশ্চিত অধিকাংশ লোকের প্রথম দুটি ঘটনায় একটুকুও আবেগ উপচে পড়েনি। এর অবশ্য যথেষ্ট কারনও আছে। কারন হলো- প্রথম দুটি ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওরা তো বিধর্মী। আপনি মুসলমানের ছাওয়াল হয়ে ওদের কেন সহায়তা করতে যাবেন ? কিন্তু আপনি কি জানেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যেও অন্য ধর্মাবলম্বীর লোক আছে।

আর যুদ্ধের কথা বলছেন ? আপনার সরকার কিভাবে একটি স্বাধীণ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। মিয়ানমার তো আপনার ওপর কোন হামলা করেনি। হামলা করেছে তার নাগরিকদের ওপর। যেমনটি হয়েছিলো ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর। ভুলে যাবেন না – তখনও কিন্তু ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে যুদ্ধ শুরু করেনি। তারা গঠিত বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে সহায়তা করেছে। তাই যুদ্ধটা আগে রোহিঙ্গাদেরই শুরু করতে হবে। আমরা পারবো তাদেরকে সহায়তা করতে।

ওরে ভাইসব আপনার আবেগকে আমি সম্মান দেখাচ্ছি। কিন্তু কখন কোন পদক্ষেপ নিতে হয়, সেটা আগে জেনে নিতে হয়। গাছের গোড়া স্পর্শ না করে উপরে ওঠা যায় না।

আপনি আবেগকে উজ্জীবিত করে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করুন। সরকারের একার পক্ষে এতো লোকের ভার সহ্য করা সম্ভব না। চলে যান সীমান্তে। বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত।

আর যারা বিয়ে করতে চাচ্ছেন তাদেরকেও বলছি, অসহায় রোহিঙ্গা নারীদের দাসি বানানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে বোন বানিয়ে তাদেরকে সহায়তা করুন। ওই ক্যাম্পে কয়েক লাখ নারী আছে তাদের সবাইকে বিয়ে করবেন ? তাহলে আমার-আপনার বোন, মেয়ের বিয়ে দেয়ার লোক তো আর খুজে পাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশকে অনেকেই বলছেন লোক দেখানো। এ নিয়ে অনেক প্রোটফোলিওধারী নানা মন্তব্যও করেছেন। ওইসব ভাইদের বলছি, সাধারন মানুষ না হয় না বুঝেই কথা বলেন। আপনারা এই মুর্খতা বন্ধ করবেন কবে ? আবারো বলছি, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন। উপচে পড়া আবেগ বন্ধ করুন।

অন্যদিকে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশকে অনেকেই বলছেন লোক দেখানো। এ নিয়ে অনেক প্রোটফোলিওধারী নানা মন্তব্যও করেছেন। ওইসব ভাইদের বলছি, সাধারন মানুষ না হয় না বুঝেই কথা বলেন। কোথায় আপনি সাধুবাদ জানাবেন। তা না করে মুর্খতা করে যাচ্ছেন। এই মুর্খতা বন্ধ করবেন কবে ? ওহে বুদ্ধিজীবীর দল, একটি কথা শুনে রাখেন- মিয়ানমারে বৌদ্ধ আর মুসলিমের মধ্যে লড়াই না। লড়াইটা একদল শোষক আর বহুকাল আগে পরাধীণ হয়ে যাওয়া কিছু মুক্তিকামীর মধ্যে। যেমনটা চলছে ভারতে। সেখানে আমাদের মতো কিছু বাংলা ভাষাভাষি লোক মুক্তির স্বাদ আশ্বাদন করতে চাচ্ছেন। আবারো বলছি, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন। উপচে পড়া আবেগ বন্ধ করুন।

লেখক : সংবাদকর্মী, (লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া)।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.