বাংলাদেশে ঘুষ না পেয়ে দু চোখ উপড়ে ফেলার দায়ে পুলিশ অভিযুক্ত

 বাংলাদেশে ঘুষ না পেয়ে দু চোখ উপড়ে ফেলার দায়ে পুলিশ অভিযুক্ত

খুলনা প্রতিনিধি : ঘুষ না পেয়ে এক যুবকের দু চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় খুলনা শহরে প্রায় ডজনখানেক পুলিশ ও আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলা হলেও চক্ষু উ‌ৎপাটনের ঘটনা দেড়মাসের বেশি সময় আগের।

শাহজালাল নামে ওই যুবকের পরিবার আদালতে অভিযোগ করে বলছে, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিল, এবং সেই টাকা না দিতে পারায় পুলিশ নির্যাতন করে তার চোখ তুলে ফেলেছে। পুলিশ অবশ্য বলছে, ওই যুবক এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী, যাকে জনতা হাতেনাতে ধরে ফেলবার পর গণপিটুনি দিয়ে চোখ তুলে ফেলে।

পিরোজপুরের কাউখালির বাসিন্দা শাহজালাল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এমনটিই তার পিতা জাকির হোসেনের বক্তব্য। মি. হোসেন বিবিসিকে বলছেন, তার ছেলে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাকে নিয়ে খুলনার খালিশপুরে যায়, উদ্দেশ্য শ্বশুরবাড়িতে দুএকদিন বেড়াবে, তারপর সেখানে থাকা স্ত্রী আর কন্যাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসবে। গত আঠারোই জুলাই সন্ধ্যেবেলায় শাহজালাল শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশেরই এক দোকানে যায় বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে।

”সেখান থেকেই পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে পুলিশ থানা থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে তার চোখ উপড়ে ফেলে এবং হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেয়,” বলছিলেন মি. হোসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শাহজালালের চোখে অস্ত্রোপচার করে। কিন্তু চোখ দুটি রক্ষা পায়নি তার। সে চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে এবং এখনো ঢাকাতেই রয়েছে।

ওই সময়ে এই ঘটনাটি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয় এবং আলোচিত হয়। এর এতদিন পরে এসে আজ শাহজালালের মা রেনু বেগম বাদি হয়ে খুলনার আদালতে একটি মামলা করেন, যেখানে এজাহারে তিনি বলেন, পুলিশ তার নিরপরাধ ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল এবং না পেয়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুঁচিয়ে তার চোখ উৎপাটন করেছিল।

এই অভিযোগে খুলনার খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান সহ মোট তের জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বলছিলেন বাদি পক্ষের আইনজীবী মমিনুল ইসলাম।

কিন্তু মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান বলছেন, সোমা বেগম, যার নাম এসেছে মামলার একজন অভিযুক্ত হিসেবে, তিনি হাসপাতাল থেকে অসুস্থ বাবাকে দেখে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন, আর ছিনতাইকারী শাহাজালাল হাতেনাতে জনতার হাতে ধরা পড়ে, এবং জনতাই তার চোখ উপড়ে নেয়।

তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে সর্বৈব মিথ্যে বলে দাবি করেন ।

মি. খান বলেন, শাহজালাল একজন চিহ্নিত ডাকাত ও ছিনতাইকারী। খুলনা ও পিরোজপুরের কাউখালিতে তার নামে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই সহ বহু মামলা আছে।

খোঁজ নিয়ে কাউখালিতে শাহজালালের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা থাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তার পিতা জাকির হোসেনও বিবিসির কাছে এই মামলাটি থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন এটি একটি মিথ্যে মামলা। স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাড়িতে গৃহকর্মীর সাথে প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও গর্ভধারণকে কেন্দ্র করে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় শাহজালালকে জড়িয়ে মামলাটি করা হয়, যে মামলাটিকে পুলিশ এখন খালিশপুরের ঘটনায় শাহজালালের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে।

বাংলাদেশে এমনিতেই নানা সময় পুলিশের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষের কাছে ঘুষ দাবি করার এবং দাবি না মিটলে নির্যাতন চালানোর বা মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এই শাহজালালের ক্ষেত্রে আদপেই কি ঘটেছিল সেটা জানতে এখন আজকের এই মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর কোন রাস্তা থাকছে না।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.