ক্রীড়া ডেস্ক : মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ২০ রানে পরাজিত অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বলেছেন, সত্যিই বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল। তবে এমন পরাজয়ের জন্য কোন অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। বাংলাদেশ তিন বিভাগেই ভাল খেলে আমাদের হারিয়েছে। সকল কৃতিত্ব তাদেরই পাওনা।‘ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রথমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে অধিনায়কত্ব করা স্মিথ।

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্মিথ বলেন, গত দুই বছর যাবত তারা খুবই ভাল খেলছে। তবে এ জন্য তাদেরকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আমি মনে করি, নিজ মাঠে বাংলাদেশ একটি বিপজ্জনক দল। সোজা কথায় তারা আমাদের হারিয়েছে। গত বছর তারা ইংল্যান্ড দলকেও হারিয়েছে। সুতরাং এমন কন্ডিশনে তারা এমন একটা দল যাদের আত্মবিশ্বাস আছে। তাদের দলে বেশ কিছু ভাল খেলোযাড় রয়েছে। আমার মনে হয় টপঅর্ডারে তামিম ইকবাল খুবই ভাল একজন খেলোয়াড় এবং আক্রমণাত্মক একজন খেলোয়াড়। সাকিব বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে খুবই ভাল খেলেছে এবং দুই ইনিংসেই চমৎকার বোলিং করেছেন। তাদের অভিজ্ঞ খেলোযাড়রা সত্যিই দলের জন্য খুব খেলেছে।

সাকিবের ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া সম্পর্কে স্মিথ আরো বলেন, ‘আমি মনে করছি প্রথম ইনিংসে সে খুবই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। আমরা কোনভাবেই তাকে আটকাতে পারিনি। আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভাল করতে পারেনি। একই সঙ্গে স্পিনারদের লাইন-লেন্থ ঠিক ছিল না। তারা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই সাকিব ভাল করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি।’

ম্যাচে হারলেও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হয়ে বলে মনে করছেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ম্যাচে কঠিন প্রতিদ্বন্দিতা হয়েছে। প্রথম ইনিংসে সাকিব-তামিমের জুটির কারণেই তারা ২৬০ রান করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করছি। এখানেই আমরা কিছু বেশি রান দিয়ে ফেলেছি। ১৮০-২০০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ভাল হতো। তাছাড়া প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিংটাও খুব ভাল হয়নি। বিশেষ করে উপমহাদেশে শেষে ব্যাটিং করাটা বেশ কঠিন। এ জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।’

চট্টগ্রাম টেস্ট নিয়ে স্মিথ বলেন, অবশ্যই আমাদের হাতে কয়েকটা বিকল্প আছে। দ্বিতীয় টেস্টের পিচ দেখেই নির্বাচকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। উইকেট স্পিন সহায়ক হলে অবশ্যই সেটা বিবেচনা করে সেরা একাদশ নির্বাচন করা হবে।

প্রথম ম্যাচে হেরে অস্ট্রেলিয়া চাপে কিনা জানতে চাইলে স্মিথ বলেন, দুই ম্যাচ সিরিজে আমরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছি। স্বাভাবিক ভাবেই চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা অনেক বেশি চাপে থাকব। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতা রেখে সিরিজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। এই দলটির জন্য এটা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। হতাশা অবশ্যই আছে। তবে এ ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে ভাল করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.