কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পড়েছে বন্যার প্রভাব। চাঁদ ওঠার পরের দিন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি স্থানীয় প্রতিটি হাটে প্রচুর পশুর আমদানি হলেও ক্রেতা স্বপ্লতার কারণে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় দাম অনেক কমেছে। তার পরেও নিম্নআয়ের মানুষেরা কোরবানি দিতে পারছেন না।
উলিপুরের প্রায় প্রতিটি পশুর হাটে এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি প্রচুর হওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামারিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এমনকি তাদের মূলধন হারাতে হচ্ছে। বন্যা উপদ্রুত নদ-নদী এলাকার চর ও দ্বীপচরের মানুষরা গো-খাদ্য চরম সংকটে পড়ার কারণে তারা উপায়ান্ত না পেয়ে অল্প দামে গরু বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া রোগ-বালাই জনিত শঙ্কায় তারা দুঃচিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। একদিকে বন্যায় ফসলহানি অন্যদিকে গো-খাদ্য সংকট। সাংসারিক অভাব-অনটনের চিন্তায় বিষিয়ে তুলেছে তাদের। তাই তাদের পালিত গরুগুলো ঈদ হাটে নিয়ে আসায় ভারতীয় গরুর কারণে দামও খুব একটা বেশি হাঁকাতে পারছেন না।
গত কয়েক দিনে উলিপুর হাট, নাজিমখান হাট, দূর্গাপুর, বজরা এবং থেতরাই হাট ঘুরে দেখা গেছে, এ সব হাটে দেশি জাতের গরু আকার-প্রকার ভেদে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বারের তুলনায় প্রতিটি গরু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম।
উলিপুর হাটে লুৎফর রহমান একটি গরুর দাম হেঁকেছেন ৯০ হাজার টাকা। আলাপকালে তিনি জানায়, গরুটির দাম উঠেছে ৬০ হাজার টাকা।
দলদলিয়া সরদারপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের তিনটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গরুর দাম উঠেছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন হাটে ওঠা ছাগলের দামও এবার খুবই কম।

বিভিন্ন হাটে আকার ও রং ভেঁদে ছাগল বিক্রি হাচ্ছ ৪ থেকে ৬/৭ হাজার টাকার মধ্যে। চলতি বছর কোরবানির পশুর দাম কম হওয়া সত্বেও এ অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের মানুষ কোরবানি দিতে পারছেন না। অপরদিকে লোকসান গুণতে হচ্ছে গরু খামারি, ব্যবসায়ী ও গৃহস্থদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.