ডেস্ক : তৈরি পোশাকখাতের পরই তথ্যপ্রযুক্তি হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত। এই খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সময়ে ২০ লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরি করা হবে। এই ২০ লাখ পেশাজীবী জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এ জন্য সারা দেশে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হচ্ছে। দেশের গ্রামাঞ্চল থেকেও যেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা কাজ করতে পারেন, এমন অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগের ব্যবস্থা স্থাপন করতে না পারলে সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, কানেক্টিভিটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে; যাতে শহরের সাথে গ্রামের কোনো পার্থক্য না থাকে। সমহারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের অনেক অঞ্চলে কানেক্টিভিটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে দেশের সব ইউনিয়ন কানেক্টিভিটির আওতায় চলে আসবে। এর বাইরে বেসরকারি উদ্যোগেও আইসিটি উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অন্য বিষয়ের সাথে আইসিটি বিষয়ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সাথে সাথে যেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে বের হতে পারেন।

তিনি জানান, ইনফো-৩ প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ প্রান্তিক পর্যায়ের দপ্তর প্রতিষ্ঠানে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রদান, ১৫ হাজার প্রাথমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, ডিসি ও ইউএনও অফিসে কম্পিউটার ল্যাব, ইমার্জেন্সি সার্ভিস সেন্টার, ১০ হাজার গ্রোথ সেন্টারে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স ও রেগুলেটরি ল্যাব, সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব ও ভিএলএস ল্যাব স্থাপনসহ গ্রামপর্যায়ে ই-কমার্স চালু করা হবে। প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একটি করে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স প্রতিষ্ঠা করা হলে গ্রামের মানুষ বাড়িতে বসেই ব্যবসাবাণিজ্য, নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ জনপদের মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল বৈষম্য রোধ সম্ভব হবে। ১ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

সূত্র জানিয়েছে, চীনের আর্থিক সহযোগিতায় ইস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি নামে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কালিয়াকৈর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্নস্থানে আইটিপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব পার্কে ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। আইটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় আইসিটি শিল্পের প্রসারে এসব পার্ক ও সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও সেবা প্রদানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। সরকারি কার্যক্রম ও সেবা প্রদান পদ্ধতির ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।

পলক বলেন, ‘মানুষ এখন সহজেই সেবা পাচ্ছে। গত আট বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ অভিযাত্রায় তথ্যপ্রযুক্তির অভ‚তপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটেছে। এখন তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা পৌঁছে গেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শহরের সাথে গ্রামের মানুষের পার্থক্য কমিয়ে আনা। দেশের সরকারি সাড়ে ১৮ হাজার অফিসে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হয়েছে। যে কেউ যে কোনো সময় এসব অফিসের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাঁচ হাজার ২৭৫ ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা পাচ্ছেন। আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নতুন খাত হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও)। একেই এখন থেকে বেশি করে ফোকাস করা হচ্ছে। এটা যতো বেশি প্রচার পাবে, তরুণরা ততোই উৎসাহিত হবে।’

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং তথ্যপ্রযুক্তির খাতে আয়ের অন্যতম উৎস। ঘরে বসেই এই খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা আয় করা সম্ভব। সরকার এ জন্য দেশে ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ ফ্রিল্যান্সার গড়ে উঠলে ভিশন ২০২১ মধ্যে দেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিতে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.