নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বাড়তে থাকে রাজধানীর সব ধরনের সবজি দাম। এরপর গত রমজান মাসে আরও একদফা বৃদ্ধি পায়। তবে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে আবারও বেড়ে যায় সবজির দাম। কয়েক স্তরে দাম বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীর অধিকাংশ সবজিই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসে।  কিন্তু ওই অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সবজি উৎপাদন কমে গেছে। তাই দামও বেড়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু, ধনিয়া পাতাসহ কিছু শাক বাদে কোনো সবজি ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। কিছু কিছু সবজির দাম প্রায় ২০০ টাকা ছুঁই ছুঁই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে যে বেগুন সর্বোচ্চ ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা এখন ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সব ধরনের সবজির দাম ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা হারে বেড়েছে। শিম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শশা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০ টাকা;আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাতিরপুলের সবজি ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া অর্থসূচককে বলেন, ঢাকার সব সবজিই প্রায় দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসে। কিন্তু এখন ওই অঞ্চল সম্পূর্ণ পানির নিচে। তাই সবজি উৎপাদন কমে যাওয়ায় সর্বরাহও কমে গেছে। ফলে সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো ভালো সবজি পাবেন না।

শুধু উত্তরাঞ্চল থেকেই কি রাজধানীতে সবজি আসে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসে; তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে শীত মৌসুমে সব অঞ্চল থেকেই প্রচুর সবজি আসে; এরমধ্যে ময়মনসিংহ থেকে বেশি অসে।

৫০ টাকার নিচে কী ধরনের সবজি আছে জানতে চাইলে সবুজ মিয়া বলেন, লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের বরাবরই অভিযোগ রাজধানীতে সবজির দাম এক বার বাড়লে আর কমে না। বন্যা, বৃষ্টিপাত এবং জলাবদ্ধতা ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর অযুহাত ছাড়া আর কিছুই না।

হাতিরপুল বাজারের কেনাকাটা করতে এসেছেন তারিকুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ৬ বছর হলো আমি ঢাকায় এসেছি। কিন্তু ৬ বছর আগে যে সবজির দাম ৩০ টাকা ছিল; তা এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে দাম একবার বাড়লে আর কমে না।

অপর একজন বেসরকারি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর সবজি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগগুলোকে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, সবজির দাম বাড়লে আর কমে না এটার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত নই। কারণ কিছু কিছু সময়ে দাম কমে; কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন পন্থায়। কোনো পণ্যের দাম ১০ টাকা বাড়লে; কমে ২-৩ টাকা।

তিনি ভেংচি কেটে বললেন, তাহলে কমছে না কোথায়; কমছে তো।

হ্যাঁ, শহিদুল ইসলাম ঠিকই বলেছেন। সবজির দাম কমছে; কিন্তু সেটা আপত দৃষ্টিতে। প্রত্যক্ষভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, কোনো পণ্যের দাম ১০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পর যদি ২-৩ টাকা কমে; তাহলে আদৌ কি সেটা কমলো?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.