নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ‘অপকর্মের’ দায় হিন্দুরা বহন করবে না বলে জানিয়েছে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দাক্ষিণ্যের’ সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মনে করে সংগঠনটি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সরকারের অধীনস্ত এই ট্রাস্টের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি গৌর গোপাল সাহা বলেন, ‘একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ হয়েও শেখ হাসিনার দাক্ষিণ্যে বিশেষ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে বিচারপতি সিনহা যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তিনি তার সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব- সকল মহল নিজ নিজ দায়িত্ব, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থেকে জাতির কপালে যে কলঙ্কের দাগ লেপন করা হয়েছে তার সম্মানজনক নিষ্পত্তি করবে।’

এস কে সিনহার প্রধান বিচারপতি হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ‘দাক্ষিণ্য’ হলে এ পদের জন্য তিনি অযোগ্য ছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নে গৌর গোপাল বলেন, ‘যোগ্যতা ছিল, ত্রুটিও ছিল। তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। এসব নিশ্চয়ই যোগ্যতা নয়। আর তিনি বিশেষ বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি হয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গ এখন আলোচনায় আসছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো সবাই বলছে।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কলঙ্কজনক অধ্যায় বলেও মন্তব্য করেছেন হাইকোর্টের এই বিচারপতি।

সরকারের কোনো মহলের চাপে এই সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েই এর আয়োজন করা হয়েছে।’

গৌর গোপাল বলেন, ‘বিচারপতি সিনহার নানাবিধ অপ্রাসঙ্গিক বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আজ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ সোচ্চার। প্রধানমন্ত্রী অসীম ধৈর্যশীল ও দয়ালু বিদায় এ বিতর্কিত ব্যক্তি এখনো স্বপদে বহাল আছেন।’

প্রধান বিচারপতির ‘অপ্রাসঙ্গিক, বিচারবহির্ভূত অবাঞ্ছিত মন্তব্যে’ দেশ উত্তপ্ত দাবি করে তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে কোনো ব্যক্তি বিশেষের উচ্চাভিলাষ ও দূরভিসন্ধি কোনোটাই এদেশের মানুষ গ্রহণ করে না।

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি রায়ে মূল বিচারিক বিষয়ের বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক অবদানকে কটাক্ষ করে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।’

সংসদকে অকার্যকর এবং সংসদ সদস্যদের অযোগ্য বলা প্রধান বিচারপতির ‘এখতিয়ারবহির্ভূত ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলেও মন্তব্য করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান।

পাকিস্তানের উদাহরণ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন,’ শেখ হাসিনাকে পরোক্ষভাবে তিনি যে ভীতি প্রদর্শন করেছেন সেটাও সর্বোতভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষমতার অপব্যবহার।’

প্রধান বিচারপতি শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন আরাম-আয়েশে দিন কাটিয়েছেন বলেও গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানান গৌর গোপাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠী আজ অকারণে ব্যক্তি বিশেষের অবিমৃশ্যকারিতার জন্য জাতির কাঠগড়ায় অভিযুক্ত। অথচ এই বিভ্রান্তির জন্য তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।’

এই বিচারপতি বলেন, ‘হিন্দু নামধারী ব্যক্তি বিশেষের অপকর্মের দায় দায়িত্ব তারা (হিন্দুরা) কোনোভাবেই বহন করে না।’

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার রায়, রিপন রায় লিপু, চন্দন রায়, উজ্জ্বল প্রসাদ কানু, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল পাল, শ্যামল ভট্টাচার্য, সুব্রত পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.