যশোর প্রতিনিধি : যশোর-৫ আসন হতে বার বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান আর নেই। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান। তার ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরহুমের জানাজা রবিবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে, যোহরের নামাজের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে, বাদ আসর যশোর শহরে ও বাদ মাগরিব মনিরামপুরে এবং বাদ এশা খুলনার ডুমুরিয়ায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
জানাযায়, গত ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার যশোর শহরে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি শরীরে জ্বর অনুভব করেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যান। স্বজনরা তাঁকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসরা ঢাকায় চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন।
অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে তাঁকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। পরীক্ষা নিরিক্ষার পর জানানো হয় তিনি ম্যানেনজাইটিজ রোগে আক্রান্ত। তাঁর ব্রেনে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে পানি জমছে। শনিবার রাতে তিনি মারা যান।
খান টিপু সুলতান ১৯৫০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়ার জমিদার বাড়ী অর্থাৎ মামার বাড়িতে তাঁর জন্ম। দাদার বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াইল থানার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে।
দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালে বাবা ক্যান্সারে মারা গেলে টিপু সুলতান অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। এসময় লেখাপড়ার জন্য তাঁকে যশোরের লোন অফিস পাড়ায় মামা বাড়ি চলে আসতে হয়। ১৯৬৬ সালে যশোর সম্মিলনী স্কুলে ১০ম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এসময় তিনি অনেক ছাত্রকে ছাত্রলীগের সদস্য করেন এবং ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের নেতারা খুশি হয়ে ওই সময়েই তাঁকে যশোর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।
১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৯ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যশোর অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন খান টিপু সুলতান এবং ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠিত জেলা ছাত্রলীগ সম্মেলনে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে যশোর জেলার আপামর জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেটশিপ অর্জন করেন এবং আইন পেশায় যোগ দেন।
১৯৭৮ সালে তাঁর উদ্যোগে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এর পর পরই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়; এতে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচন করা হয়।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যশোর-৫ (মনিরামপুর) হতে নির্বাচিত হন খান টিপু সুলতান। এ সময় তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে আবার যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যশোর-৫ আসন থেকে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খান টিপু সুলতান আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং ৩য় বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.