ডেস্ক : ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান।শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি মালদ্বীপ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে নামেন।

বিমানবন্দরে সিদ্দিকুর রহমানকে নিতে যান তার সহপাঠীরা। তারা বিমানবন্দরের সামনের সড়কে চোখে কালো কাপড় বেধে মানববন্ধন করেন।

সিদ্দিকুর রহমানের সহপাঠী শেখ ফরিদ জানান, সোয়া ৩টার দিন বিমানবন্দরে পৌঁছেছে সিদ্দিকুর রহমান। বিমানবন্দর থেকে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হবে।

দেশে ফেরার আগে বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ের চিকিৎসক লিঙ্গম গোপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তাকে ৫-৬ সপ্তাহের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সিদ্দিকুর রহমানের চোখ ভালো হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাম চোখের রেটিনার ৯০ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। আর ডান চোখ তো আগেই নষ্ট হয়েছে। চেন্নাইয়ে অস্ত্রোপচারের পর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সিদ্দিকুর রহমানের চোখের কোনো উন্নতি হয়নি। তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার চোখে আলো ফিরবে কি না তা ৪-৬ সপ্তাহ পর জানা যাবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ২৭ জুলাই দুপুরে একটি ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুর রহমানকে চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে গিয়েছিলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান মেনন ও বড় ভাই নওয়াব আলী।

চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর ২৮ জুলাই প্রথম চিকিৎসক দেখানো হয়। পরে ৩১ জুলাই চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমানের চোখ পরীক্ষা করে জানান, তার দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে রোগী চাইলে তারা অস্ত্রোপচার করবেন। ১ আগস্ট রোগীর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে ৪ আগস্ট অস্ত্রোপচার করা হয়।

সিদ্দিকুর রহমান চেন্নাই যাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, সিদ্দিকুর রহমান যাতে অন্তত একটি চোখে দেখতে পান, সেজন্য চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। সিদ্দিকুর রহমান দেশে ফিরলেই তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চাকরি দেওয়া হবে।

চেন্নাইয়ে পাঠানোর আগে সিদ্দিকুর রহমান জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা সময়সূচিসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান দুই চোখে আঘাত পান। প্রথমে সিদ্দিকুরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দফা তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার রক্ত, আমার চোখ অবশ্যই সার্থক হবে, যদি সাত কলেজে লেখাপড়ার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। আমি তা–ই চাই। আমি রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাই। আমার সামর্থ্য ছিল না দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর। রাষ্ট্র আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমার খোঁজ নিয়েছেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি আমার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই, পড়াশোনা শেষ করতে চাই। আমি যেন অবহেলার পাত্র না হই। সম্মানজনক একটা অবস্থান চাই।’

চোখের অবস্থা সম্পর্কে সিদ্দিকুর জানান, ‘ডাক্তার বলেছেন “লিটল হোপ”…একেবারে সামান্য সম্ভাবনা আছে ভালো হওয়ার। তবে আরও ছয় সপ্তাহ গেলে তা বোঝা যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী, তবে কারও প্রতি ক্ষোভ নেই। যদি তারা বাড়াবাড়ি করে থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.