ডেস্ক : রাজধানীতে বিল্ডিং কোড না মেনে বাড়ি নির্মাণ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এমন কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রাজউক কর্মকর্তারা। রাজউকের এমন ব্যর্থতার মাঝে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পিত নগর বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটি। রাজউকের বসবাস সনদ ছাড়া ইউটিলিটি সেবা প্রদানের অন্য সকল সরকারি সেবা সংস্থাকে সার্ভিস দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

মূলত জনবল স্বল্পতা ও আরো কিছু ঝামেলার কারণে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণাধীন ও নির্মাণ করা বাড়ির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না সরকারের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থা। এ জন্য বসবাস সনদের মাধ্যমে সকল ধরনের ইউটিলিটি সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক।

বসবাস সনদ প্রসঙ্গে রাজউকের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজউকের প্ল্যান অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করলে বসবাস সনদ প্রদান করা হবে। এছাড়া কোনো বাড়িতে ইউটিলিটি সেবা প্রদান করবে না কোনো সংস্থা।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি সেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছি, রাজউকের বসবাস সনদ ছাড়া কোনো ধরনের ইউটিলিটি সেবা প্রদান না করার জন্য।

রাজউকের এরিয়ায় কোনো বাড়ি নির্মাণ করতে হলে, রাজউকের ছাড়পত্র দরকার হয়। এরপর রাজউকের নগর পরিকল্পনার অনুমোদন দরকার হয়। তারপর নকশা অনুমোদন করে রাজউক।

কিন্তু রাজউকের এসব নিয়ন না মেনেই প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছে অনেকেই। এজন্য এতো আইন থাকার পরও বসবাস সনদের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। এই সনদ না থাকলে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ নাগরিক কোনো সুবিধা মিলবে না অন্য সরকারি সেবা সংস্থার কাছ থেকে।

রাজউকের প্ল্যান মোতাবেক কোনো বিল্ডিং নির্মাণ না করা হলে রাজউক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। যা রাজউকের কাজ। তবুও কেন এমন আইন? এ প্রসঙ্গে ড. মোসাররফ হোসেন বলেন, আমাদের জনবল কম থাকার কারণে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সনদ না থাকলে অন্য কোনো সেবা পাবেন না নাগরিকরা। এর ফলে আমাদের জনবল কম থাকার কারনে যেভাবে নজদারি করা দরকার, তা করতে পারছি না। তাই অন্য সেবা সংস্থা আমাদের সনদ ছাড়া সেবা বন্ধ রাখলে জনবল সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে আমাদের মনিটরিং করা সহজ হবে।

চার সিটি করপোরেশনের ১৬শ ২৮ বর্গ কিলোমিটার রাজউকের তত্ত্বাবধান এলাকা। যার মধ্যে ৭০টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর ইমারত নীতিমালা ২০০৮ অনুযায়ী বসবাস সনদের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। গত এক বছর ধরে বসবাস সনদের কার্যক্রম চলমান থাকলেও কতোগুলো বাড়ি এই সনদের আওতায় রয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই রাজউকের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.