মশা মারতে কামানও দাগানো

 মশা মারতে কামানও দাগানো

একটা সময় ছিল, যখন আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর নেয়াটাকে খুব হাস্যকর একটা ঘটনা মনে করা হতো। এখন সে যুগ হয়েছে বাসি। বিশ্বায়নের এই কালে আদাও জাহাজে চড়ে, দেশে-বিদেশে যায়। অতএব, কোনো আদার ব্যাপারী যদি জাহাজের খবর নেনও, তাতে কেউ অবাক হন না। একইভাবে মশা মারতে কামান দাগার বিষয়টিও আজ আর আগের ফর্মে নেই। মশার শনৈঃ শনৈঃ বংশবৃদ্ধি এবং মশাবাহিত নানা রোগের ব্যাপক বিস্তার পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, মশা মারতে কামান দাগাও আজ বুঝি সময়েরই দাবি।

কথাগুলো আসছে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া নামের এক নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক এক রোগের মহামারী রূপ ধারণের কারণে। এই রোগটি নিজেই শুধু মহামারীর রূপ পরিগ্রহ করেনি, একে নিয়ে আলোচনায় মুখর হয়েছে জাতীয় সংসদ। চিকুনগুনিয়ার বাহক মশা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। স্বাস্থ্য বিভাগ দোষারোপ করছে নগর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনকে। সিটি করপোরেশন আবার দোষ চাপাচ্ছে নগরবাসীর ওপর।

মোটের ওপর পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, খোদ সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগই হুমকি দিয়েছে যে, মশা নিধনে ব্যর্থ হলে সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও করা হবে। এমন হুমকি তো বিরোধী দলেরই দেয়ার কথা, কিন্তু দিচ্ছে সরকারি দলেরই সহযোগী সংগঠন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এ থেকেই অনুমেয়।

মশা নিধনে সরকারের আলাদা অধিদফতরই রয়েছে। তারা কাজ করছে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে। তাদের বাজেটের পরিমাণও একেবারে কম নয়। বলা চলে, প্রায় কামান দাগারই সমান – ঢাকা দক্ষিণে ১২ কোটি ৫০ লাখ এবং উত্তরে ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মজার ব্যাপার হলো, ওই টাকা নাকি খরচও হয়ে গেছে। তাতে মশা মরেছে কী না, সেটা ওই দায়িত্বে নিয়োজিতরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে নগরবাসী জানেন, তারা মশক নিধনকর্মীদের কদাচিতই দেখে থাকেন।

প্রশ্ন হলো, তাহলে কার দোষ? দুই সিটি কর্পোরেশন, নগরবাসী না অন্য কেউ? মশা নিধনের জন্য যেহেতু সিটি কর্পোরেশনকে সরকার ভালো একটা বরাদ্দ দিয়েই রেখেছে, কাজেই তারা কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। আবার একজন মেয়রের এ কথাটিও আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না যে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার জন্ম কিন্তু ময়লা পানি বা ড্রেনে নয়, ওরা জন্মায় বাসার ফ্রিজ, এসি, ফুলের টব ও সানশেডে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। সিটি কর্পোরেশনকর্মীদের ওই পর্যন্ত যাওয়ার অধিকার নেই। এখানে দরকার মানুষের সচেতনতা।

সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর দক্ষ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা তো অবশ্যই আমরা সবাই দেখতে চাইবো, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অবশ্যই কাম্য। সকলের মিলিত চেষ্টাতেই যে কোনো কাজে সাফল্য অর্জন সম্ভব। মনে রাখতে হবে, দেশটা শুধু সরকার বা সরকারি দফতরের নয়, আমাদের সকলের। কাজেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমরা প্রত্যেকে সচেতন ও দায়িত্ববান হলে চিকুনগুনিয়া মহামারী রোধ করা দুঃসাধ্য হলেও অসাধ্য নয়।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.