নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার সুবাদে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও একে একে গড়ে ওঠে ই-কমার্স সেবা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিনিয়োগে এগিয়ে আসে বিদেশী প্রতিষ্ঠানও। অল্প সময়ের মধ্যে বেশ প্রবৃদ্ধিও আসছে এ খাতে। বাড়িতে বসে আনন্দের ছলে কেনাকাটা করার এই নতুন সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে তরুণ প্রজন্মের ওপর। বর্তমানে অনলাইনে কেনা-বেচার বিষয়টি একেবারেই কমন বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এই ঈদেও তিনশ কোটি টাকার ওপর পণ্য বিক্রি হয়েছে শুধুমাত্র অনলাইনে। আর অন্যান্য সময়ের তুলনায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আর তাই ই-কমার্স এখন ক্রেতাদের একটি পছন্দের মাধ্যম। আর এই অনলাইন ব্যবসার মুখপত্র হিসেবে অনলাইন ই-কমার্স ম্যাগাজিন ‘কিনুন এক্সওয়াইজেড’ যাত্রা শুরু করেছে।
বেটা ভার্সনে যাত্রা শুরু করা এই ই-ম্যাগটি মুলত দুটি সংস্করণে বাজারে এসেছে। এর একটি হলো পূর্ণাঙ্গ একটি অনলাইন ই-ম্যাগ পোর্টাল যা অন্যান্য অনলাইন নিউজ পোর্টালের মতো নিয়মিত আপডেট হবে। দ্বিতীয়ত : প্রতি মাসে ম্যাগাজিনটির (আপাতত মাসিক ভিত্তিতে) একটি করে পিডিএফ ভার্সনে ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
তিনি জানান, ক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অনলাইন কেনা-বেচার ঝুঁকি এড়িয়ে ভাল একটি মার্কেট প্লেস গড়ার লক্ষ্যেই এই ম্যাগাজিনের যাত্রা। ম্যাগাজিনটি একাধারে ক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণে, অধিকার সংরক্ষণে এবং তাদের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য একটি প্লাটফর্ম  হিসেবে কাজ করবে । এছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রাপ্তির সমন্বয় এবং অভাব-অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ হবে পোর্টালটিতে। তাছাড়া পিডিএফ ভার্সনে মাসিক ই-ম্যাগটিতে থাকবে উদ্যোক্তা, গাইডলাইন, প্রোডাক্ট রিভিউ, কেস স্টাডি, করণীয়, সতর্কতা, সাক্ষাতকার, সাফল্য, ব্যার্থতা, ফিচারসহ নানা আয়োজন। 
পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান জানান, পোর্টালে পাঠক নিজেই লিখতে ও প্রয়োজনীয় ছবি জুড়তে পারবেন। এজন্য তাকে অবশ্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মাস শেষে সেরা লেখাগুলো নিয়েই আমাদের পিডিএফ ভার্সনে ম্যাগাজিনটি উন্মুক্ত করা হবে। আপাতত মাসিক ভিত্তিতে পিডিএফ ম্যাগাজিনটি হলেও পর্যায়ক্রমে তা পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পর্যাবৃত্তিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ওয়ালিউর রহমান আরো জানান, পোর্টালে বিক্রেতারা নিজেদের ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন সম্পুর্ণ বিনামূল্যে। তাছাড়া প্রোডাক্ট বা পণ্যের ওপর রিভিউ লিখতে ও ভিডিও রিভিউ প্রকাশ করে দিতে পারবেন। চাইলে যে কোন ক্রেতাও এই রিভিউ জমা দিতে পারেন। পোর্টালটিতে মুলত ক্রেতাদের বেশি ফোকাস করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিক্রেতাদেরকে তথ্য সরবরাহ ও ধারণা পরিষ্কার করতে  এর সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বছর পাঁচেক ধরে জমে ওঠা ই-কমার্সে জামা-কাপড় থেকে শুরু করে স্যুট, গৃহস্থালি পণ্য, শৌখিন পণ্য, জুতা-স্যান্ডেল, পালং শাক থেকে চিংড়ি মাছ, দেশীয় মোবাইল ফোন সেট থেকে আইফোন, গ্যাজেটস, ফাস্টফুড,কাঁচাবাজার সবই পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। তবে এর মধ্যে সক্রিয় আছে অর্ধশতাধিক। অন্যদিকে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ই-কমার্সে জড়িত প্রায় এক হাজার ওয়েবসাইট ও আট হাজারের বেশি ফেসবুক পেজ আছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজারের মতো ডেলিভারি হয়, যা প্রতি মাসে দাঁড়ায় আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখের মতো।
জানা যায়, উৎসববিহীন সময়ে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজারের মতো ই-কমার্সে লেনদেন হয়ে থাকে। উৎসবের সময়ে তা গিয়ে দাঁড়ায় তিনগুণ তথা ৩০ হাজারে। অন্যদিকে ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় সংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতে লেনদেনের হার আরও বাড়বে।
http://kinun.xyz/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.