পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আরো সহজ হোক অামার মাতৃভাষা

 পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আরো সহজ হোক অামার মাতৃভাষা

মেহেবুব আলম বর্ণ : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রথম পুনর্মুদ্রণ জুন ২০১৬ তে গুনে দেখলাম ‘ঈ’ দিয়ে ৫৮ টি শব্দ রয়েছে। ঈ/ দির্ ঘো ই/ বর্ণটি উচ্চারণেও ‘ই’ আসে। ঈ বাংলা বর্ণমালার চতুর্থ স্বরবর্ণ এবং তালু থেকে উচ্চারিত মৌলিক স্বরধ্বনি (i)-র প্রতীক (সংস্কৃতে ঈ-র উচ্চারণ দীর্ঘ হলেও বাংলায় তা হ্রস্ব এবং ই-র অনুরূপ) ।

ঈ দিয়ে ঈদ লিখে উচ্চারণ করুন। এবার ই দিয়ে ইদ লিখে উচ্চারণ করুন। কোন পার্থক্য পাচ্ছেন কি? দুটোরই উচ্চারণ তো ইদ্ । ঈ দিয়ে ৫৮ টি শব্দের উচ্চারণ ই দিয়েই শুরু। তো বাংলাভাষা থেকে ঈ কে বাদ দিলে কি কি ক্ষতি হবে? বাংলা বর্ণের রূপ কি তার জন্ম থেকে একই আছে? নাকি তার বিবর্তন হয়েছে? ঈদ ইদ হলে দেখতে ন্যাংটা ন্যাংটা লাগছে এটা ঠিক। নিজের চুল ছাটলেও তো কয়েকদিন আয়নায় মুখটা দেখতে অন্যরকম লাগে। তারপর ধিরে ধিরে তো নতুনটাই স্বাভাবিক দেখায়। পরিবর্তন বিষয়টিই তো এমন।

ঈশানকোণে মেঘ না জমে যদি ইশানকোণে জমে তাতে কি বৃষ্টি নামবে না? ঈশিতাকে ইশিতা ডাকলে কি সাড়া দেবে না? ঈর্ষাপরায়ণ তো হিংসুটে সে ইর্ষাপরায়ণ হলে কি দয়াশীল হয়ে যাবে? ঈশ্বর ছাড়া কি ইশ্বরে মানুষের মঙ্গল সম্ভবই নয়? ঈষৎ আলোচনায় মন বসলে ইষৎ হলে আলোচনা জমবেই না? কেন ? শুধু ঈ না আমি ‘ ী ‘ টাও বাদ গেলে খুশিই হবো। হ্রস্ব উ থাক দীর্ঘ উ বাদ যাক।

আচ্ছা, ষষ্ঠীপূজাকে যদি সস্টিপূজা, ষোড়শী – সোড়সি, ষোড়শ – সোড়স , শব্দ-সব্দ, শয্যা-সয্যা, শঙ্খচিল-সঙ্খচিল, সংঘর্ষ-সংঘর্স, সংশোধন- সাংসোধন লেখা সুরু হয় অর্থাৎ ষ, শ, স এর মধ্যে সুধু স রাখা যায় কেমন হয় ? জ ও য এর মধ্যে একটা থাকলে ? ন আর ণ থেকে ণ বাদ গেলে বর্নকে দেখতে ভালোলাগছে না। ৪৫ বছর বর্ণকে তো ণ য়ে দেখেছি। এই ভালোলাগা না লাগাই কি বড় ব্যাপার ?

বাংলাভাষার এমন এক সংস্কার চলাতে গেলে কিছু শব্দ নিয়ে ঝামেলা হবে। বাংলাভাষাও তো অন্য ভাষার শব্দ গ্রহণ করে। চেয়ার,টেবিলের মতো মোবাইল, ইন্টারনেট, ই-মেইল এই শব্দগুলো তো এখন বাংলা। নতুন নতুন শব্দ বাংলাভাষায় যোগ হচ্ছে। তেমন কিছু শব্দ ঝরে পড়লে খুবই কি ক্ষতি?

ঙ এবং ং এর মধ্যে একটি থাকলে ক্ষতি কি? আমাদের লিখিত ভাষা আরো সহজ করা নিশ্চয়ই অসম্ভব নয়। কালে কালে বিবর্তনে, পরিবর্তনে, সংস্কারে প্রচলিততে অভ্যস্তদের মাঝ থেকে বিরুপ প্রতিক্রিয়া আসেই। তা রাজনৈতিক , ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা ভাষাগত ক্ষেত্রেও। আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন বাড়ী, শাড়ী। আমার মেয়েকে আমি শিখিয়েছি বাড়ি, শাড়ি, পাখি। আমার মেয়ে তাঁর সন্তানকে সাড়ি শেখালে ক্ষতি কি? পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আরো সহজ, সাবলীল, প্রমিত হোক অামার মাতৃভাষা। আমি এই চাই।

লেখক : সাংবাদিক

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.