নিজস্ব প্রতিবেদক : গুলিস্তান থেকে সদরঘাটমুখী গাড়িগুলো যেন চলছেই না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সদরঘাটমুখী গাড়িগুলো গিয়ে থামছে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে। সেখান থেকে সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘ লাইন। এসব লাইন গিয়ে থামছে লঞ্চ টার্মিনালে; সেখানে বাড়ছে ভিড়। ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা।

গত বুধবার থেকে ঈদযাত্রা শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাজধানীর রেল ও বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শত শত নারী-পুরুষ মালামাল ও পরিবার-পরিজন নিয়ে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ যানজট আর লঞ্চের অপেক্ষায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Shadarghat (1)

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী শত শত নারী-পুরুষ তাদের পরিবার-পরিজন ও মালামাল নিয়ে টার্মিনালে হাজির হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভিড়ও। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পরিদর্শক কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, ভোর ৫টা থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি লঞ্চ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে এই টার্মিনাল থেকে আরও লঞ্চ ছেড়ে যাবে।

স্বপরিবারে বাড়ি ফিরছেন কাউসার আলম। অল্পের জন্য বাউফলগামী লঞ্চ ধরতে পারেননি। তাই তাদের অপেক্ষা করতে হবে দুপুর অথবা সন্ধ্যা পর্যন্ত। তিনি অর্থসূচককে বলেন, রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে লঞ্চ ধরতে পারলাম না। এখন আবার ভোগান্তি। অপেক্ষা করতে হবে টার্মিনালে। তবে সন্তানদের বাড়ি ফেরার আনন্দ দেখে শত ভোগান্তি আর কষ্ট লাঘব হয়ে যায়।

পাতাবুনিয়াগামী লঞ্চের যাত্রী রবিউল আহমেদ বলেন, যানজট এড়াতে উত্তরা থেকে সকাল ৮টায় টার্মিনালে চলে এসেছি। গুলিস্তান থেকে টার্মিনালে আসতেই দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সকাল সকাল এসেও ডেকে বসার ভালো জায়গা পাইনি।

Shadarghat (2)

এদিকে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীগামী লঞ্চের যাত্রী সাবরিনা। তিনি আরও বলেন, লঞ্চে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। এরপরও যাত্রী তোলা হচ্ছে। একজনের জায়গায় ২ জন নেওয়া হচ্ছে। ভাড়াও বাড়তি নিচ্ছে লঞ্চের কর্মচারীরা।

অন্যদিকে টার্মিনালে হকারদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। আলমগীর নামে এক লঞ্চযাত্রী অভিযোগ করেন, স্টেশন-লঞ্চ ঘাট মানেই হকারের উৎপাত। ঈদের কারণে সেই উৎপাত আরও বেড়েছে। লঞ্চগুলোতে এখন দাঁড়ানোর জায়গা নেই; অতিরিক্ত ভিড়। এর মধ্যে ঝামেলা বাড়াচ্ছে হকাররা। ভিড়ের মধ্যে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে লঞ্চে ঘুরছে তারা। তাদের জন্য এক জায়গা দাঁড়াবো- সেই সুযোগও পাচ্ছি না।

এতোসব ভোগান্তির পরও ঘরমুখো মানুষের আনন্দের যেন শেষ নেই। লঞ্চযাত্রী লবিব বলেন, পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করবো, ভাবতেই ভালো লাগছে।

Shadarghat (3)

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরব অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। খোলা হয়েছে পুলিশ, র‍্যাব এবং কোস্টগার্ডের আলাদা আলাদা কন্টোল রুম।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত চকবাজার জোনের এএসপি সিরাজ অর্থসূচককে বলেন, যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। জনসাধারণের স্বার্থে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

যাত্রীদের হয়রানি, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন রোধসহ হকারদের উচ্ছেদে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তত্পর রয়েছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.