আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচ-টমেটোর দাম

 আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচ-টমেটোর দাম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রজমান মাস শেষ হতে চলল। তবে ৩ মাস আগে বেড়ে যাওয়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও কমেনি। বরং ঈদের ২/৩ দিন বাকি থাকতে রাজধানীর বাজারে কিছু পণ্যের দাম আবারও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টমেটো ও কাঁচা মরিচের দাম।

গত সপ্তাহে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া টমেটো ১২০ টাকা এবং ৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম ৭০ টাকা এবং মরিচের দাম ৪০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য পণ্যের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে।

আজ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহরে ব্যবধানে টমেটোর কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা; শুকনা মরিচের দাম ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা এবং হলুদের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি চিনি ৭৫-৭৮ টাকা; দেশি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা; রসুন ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১৫০-১৭০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মুরগির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা; লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪০০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, দেশি রসুনের দাম ১৩০ টাকা; আমদানি করা রসুনের দাম মানভেদে ১৫০-১৮০ টাকা; চিনি ৬৮-৭২ টাকা; পেঁয়াজ মানভেদে ২০-৩০ টাকা; ছোলা ৮০-৯০ টাকা; মুগ ডলা ১১০-১৩৫ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬৫ টাকা; দেশি মুরগি ৩৭০-৪০০ টাকা। তবে বাজারে এই দামের ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ছোলা ৯০ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটারের ভোজ্য তেলের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০-৫১০ টাকা; প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০-১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শশা ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, পারিজা চাল ৪৬ টাকা, মিনিকেট (ভালো মানের) ৬০ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৬ টাকা, বিআর২৮ ৫০-৫২ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫৪ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫৬ টাকা, পাইজাম চাল ৫০-৫২ টাকা, বাসমতি ৫৬ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬-৭৮ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০(পুরাতন), নতুন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

এছাড়া হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৫৫০ টাকা; খাসির মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.