নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি খাতে সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন (প্রাক-যোগ্যতা) লাইন্সেস দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে এটি হবে দেশের সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল রেডিসান ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ লাইন্সেস প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড এর উদ্যোক্তারা তাদের পূর্ব ব্যবসার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে ইকোনমিক জোন সফল ভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি সচিব ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এ বিশাল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য বাংলাদেশে এটিই প্রথম। সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড সফল হলে সরকার বেসরকারি খাতের জন্য এ ধরনের আর্ও উদ্দ্যোগ গ্রহণে চিন্তা করবে ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড.আহমদ কায়কাউস বলেন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেডকে নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে; যাতে বিনিয়োগাকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও বিজিএমইএ-এর ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান বাবু।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড বেসরকারি খাতে সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল; যা উত্তরবঙ্গে প্রবেশধারে অবস্থিত হওয়ায় সহজে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রায় ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড দেশের অন্যতম প্রথিতযশা ১১টি গ্রুপ অব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। এ জোন ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন সদর ও বেলকুচি উপজেলায় ১ হাজার ৪১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।

সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ইতোমধ্যে এই জোনের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পবন চৌধুরী বলেন, এ ইকোনমিক জোনে বিদ্যুং ও গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পানি শোধনাগার ও বর্জ্য পরিশোধনাগার প্লান্ট, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাসহ সকল পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা থাকবে।

এ জোনে টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার, এগ্রোবেইজড ফুড এন্ড বেভারেজ, ফার্মাসিউটিক্যাল, অটোমোবাইলস্, এলএনজি, লেদার পণ্য, স্টিল, ইলেকট্রনিক্স, আইটি, ফার্নিচার, পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি এবং রপ্তানী জাতীয় শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম বছরে দক্ষ-অদক্ষ, নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ১০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যা পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৫ লাখের অধিক হবে বলে আশা করা যায়।

চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেজা ইতোমধ্যে ১৪টি প্রাইভেট অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স ও ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চুড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করেছে। লাইসেন্স পাওয়া জোনগুলো হলো- মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বে অর্থনৈতিক অঞ্চল।

তিনি আরও বলেন, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে’র ডেভেলপার নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (প্রথম পর্যায়) ডেভেলপার নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ডেভেলপারকে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে ডেভলপার নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ২ এ ও ২বি এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল এর প্লট বরাদ্দের কাজ চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেডকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.