নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা নাগরিক ঐক্যের মতবিনিময় সভায় সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ক্ষমতা ছাড়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষেও আর ক্ষমতার বাইরে থাকা দুঃসহ। ক্ষমতা ছাড়া ও ক্ষমতার বাইরে থাকা দুটোই তাদের জন্য মহাবিপদের। কিন্তু বিএনপি এলেও বিপদ, আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আরো বিপদের বিপদ। এরপরেও আগামীতে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

তারা প্রত্যেকেই বিএনপি-আওয়ামী লীগের বাইরে সমমনাদের নিয়ে একটি পৃথক বলয় গড়ে তোলার উপর জোর দেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুন রেষ্টুরেন্টে ‘বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে মতবিনিময়’ শীর্ষক আয়োজিত এই আলোচনায় বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রাজনীতিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মানুষকে ভীতিমুক্ত করতে হবে। সকল দলের অংশগ্রহণে আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পুলিশ যদি আগামী এক মাস মানুষকে না পেটায় এবং গ্রেপ্তার না করে, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে ভাবতে পারেন! বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর হামলা হলো, কিন্তু দেশের কোথাও একটা মিছিল হলো না। তাহলে এতবড় দল দিয়ে কী লাভ!

জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, এই সরকারকে হটাতে হলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় থাকলে ফ্যাসিবাদী হবে। প্রতিক্রিয়ায় দেশে গৃহযুদ্ধ বা সামরিক শাসন আসবে। পরিস্থিতি এখন এমন যে, দেশে যদি আগামীতে সেমিফেয়ার নির্বাচনও হয় এবং মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় তাহলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না।

বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বলেন, মানুষ বোঝে নির্বাচন। সরকারও নির্বাচন চায়, তবে গ্রহণযোগ্যতা চায় না। এখানেই সমস্যা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের দাবি। বিএনপি-আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে সমননারা নিজেরা এক হতে পারলে দেশে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, সবাই ঐক্যের কথা বলছি, এরপরেও ঐক্য হচ্ছে না কেন?

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, দেশে বৈষম্য অঢেল হয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সমাজ ভেঙ্গে যাবে। অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। নইলে গরিব আরও গরিব হবে, বড় লোক আরও বড়লোক হবে।

তিনি বলেন, এই দেশটা শুধু বড়লোকদের নয়, এই দেশ আমাদের সবার। সবাই সুখে থাকব- এজন্যই দেশটা স্বাধীন হয়েছিল।

মতবিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.