‘স্মরণীয় থাকবেন সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান’

 ‘স্মরণীয় থাকবেন সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান’

ডেস্ক : আগামীকাল মঙ্গলবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক সেবকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হাবিবুর রহমান খানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৫ সালের ২০জুন পবিত্র ঈদ-উল্-ফিতর এর দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দুই যুগেরও বেশি সময় তিনি সাংবাদিকতার সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থেকে দেশ ও জাতির সেবা করে গেছেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এ খ্যাতিমান সাংবাদিকের সহকর্মী ও চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিকরা এক বাক্যে বলেন, ‘আপাদমস্তক সাংবাদিক’ হাবিবুর রহমান খান তাঁর কালজয়ী কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকবেন। তাঁর সৃষ্টিই তাকে অমর-অমলিন করে রাখবে।’

তার মেয়ে ও উন্নয়ন সংগঠক নাসরীন সুলতানা খানম বিবার্তাকে এক ম্যাসেজে জানান, ‘বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবারও শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হবে। আলোচনা সভাও হবে। তবে তা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

দৈনিক সেবক পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খ্যাতিমান সাংবাদিকদের অন্যতম। কঠোর ন্যায়নিষ্ঠতার জন্য তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। আবার একই কারণে তিনি আর্থিক দিক থেকে খুব একটা এগিয়ে ছিলেন না। তারপরও কোনো পরিস্থিতির প্রতিকূলতা তাঁর ন্যায়নিষ্ঠ ও লড়াকু মনোভাবকে কখনও হারাতে পারেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আলোকিত গণমাধ্যম কামনা করে গেছেন।

উল্লেখ্য, ৫০ এর দশকের শেষদিকে শিক্ষকতা পেশা থেকে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। ১৯৬০ সালে তিনি দৈনিক আজাদীর প্রথম বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইস্টার্ন এক্সামিনার এর বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আজান ও সাপ্তাহিক সমাজ এর সম্পাদক, দৈনিক নয়াবাংলার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি লাইফ, ডেইলি ইউনিটি ইত্যাদি পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ সালে নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অক্লান্ত শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে প্রকাশ করেন দৈনিক সেবক প্রত্রিকা। তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। এছাড়াও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণ সংস্থা সেবার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৃতীয় শ্রম আদালতের জুরী বোর্ড এর সম্মানীত সদস্য ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতা পেশা ছাড়াও শিক্ষা, সমবায় ও শ্রম আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। হুলাইন ছালেহ নূর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও পথ চলায় নানাভাবে সম্পৃক্ত থেকে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

তিনি ১৯৩০ সালে পটিয়ার ওকন্যারা গ্রামের খান বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.