নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরুজ্জীবিত ও সন্ত্রাসের আরেকটি বিপজ্জনক মাত্রা দৃশ্যমান হলো। গুন্ডামীর এই নবসংস্করণ জনসমর্থন ছাড়া দুঃশাসন টিকিয়ে রাখারই ইঙ্গিতবহ। গণতন্ত্রের সর্বশেষ অস্তিত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার জন্যই এটি একটি সহিংস আগ্রাসী পদক্ষেপ। এরা বিরোধী দলের মানবকল্যাণধর্মী সমাজসেবামূলক কর্মসূচিকেও বানচাল করতে হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়।

সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গণবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারনে এক অজানা ভয় থেকে আওয়ামী লীগের মনস্তাত্বিক আবহাওয়া বদলে গেছে। সেখানে পতনের আশঙ্কায় তারা উ™£ান্ত গুন্ডামীতে নেমে পড়েছে। এখন সবকিছু হারিয়ে আওয়ামী লীগ শেষ ভরসা হিসেবে গুন্ডা রাজত্ব কায়েম করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সেজন্যই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের তকমাধারী আওয়ামী লীগ নিরপরাধ, নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং লুট আর দখলবাজী অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে মারছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের প্রকোপ এখন বিপজ্জনকরূপ ধারণ করেছে। প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলসমূহ, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ, নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিবর্গ, মুক্তচিন্তার লেখক, বিবেকবান সাংবাদিক সবাই শেখ হাসিনার চরম রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার।

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন আসার আগেই গুন্ডামী ও সন্ত্রাসকে যেভাবে প্রজনন করা হচ্ছে তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হলে অবাধ-সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কী শোচনীয় বিপর্যয় ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়। সেই নির্বাচন হবে একতরফা, সন্ত্রাসকবলিত। ভোটের দিন ও এর পূর্বাপর অবস্থা চরম অরাজকতায় ঢেকে থাকবে। তাই আমরা দ্বিধাহীন কন্ঠে বলতে চাই-শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। যারা প্রাকৃতিক মহাদুর্যোগে নিপতিত উপদ্রুত অসহায় মানুষকে ফেলে নির্বিঘেœ বিদেশ সফর করতে পারে তারা সবকিছুই করতে পারে।

এসময় মহাসচিবের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতারকৃত নেতাদের মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন রিজভী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.