বর্তমান যুগে মোটরসাইকেল বা বাইক চালানো একটি আধুনিক ফ্যাশনই শুধু নয় নগরীর ব্যস্ত সড়কে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দে চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহনও বটে। অনেকের কাছে এটি আবার নেশার মত। সকলেই জানি যে বাইক চালাতে অনেক ঝুঁকি রয়েছে এবং প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকায় মোটরসাইকেল সংক্রান্ত নানা দুর্ঘটনার খবরও নজরে আসে, কেউ আহত হয়, অনেকে মারা পর্যন্ত যায়। তাই মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হবার আগে আপনার নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরী? মোটরসাইকেল ড্রাইভ করার সময় নিজেকে নিরাপদ রাখতে আপনার অবশ্য করণীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।

মোটরসাইকেল রাস্তায় বের করার পূর্বে আপনার করণীয়ঃ

মোটরসাইকেল পরীক্ষা করুনঃ মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে বের হবার আগে প্রতিবার বাইকের সব কিছু ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিবেন । চেইন, বেল্ট, ব্রেক ও শ্যাফট সবকিছু যথাযথ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে সব ঠিকমতো কাজ করছে আর তা যদি না করেন যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনো সময়। তাই আপনার নিজের ও বাইকের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত মোটর সাইকেল পরীক্ষা করুন ।

হেলমেট সঙ্গে নিনঃ হেলমেট আমাদের মাথাকে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করে। তাই অবশ্যই বের হবার আগে আপনার হেলমেট সঙ্গে নিন। হেলমেট না থাকায় মোটরসাইকেল দ্বারা সংঘটিত অধিকাংশ দূর্ঘটনায় মৃত্যুই হয় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে।

আবহাওয়া বুঝুনঃ আবহাওয়া বিবেচনায় আনুন। খারাপ আবহাওয়াতে বাইক চালাবেন না, ভারী বৃষ্টিতে এটা ঝুঁকিপূর্ণ কেননা রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এসময় টায়ার স্কিড করতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রায় ৩৮% মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা মহাসড়কে ঘটেছে বৃষ্টির মৌসুমে রাতের বেলা।

পোশাকও গুরুত্বপূর্ণঃ ছোট ও ঢিলেঢালা কাপড় পড়া ভালো আইডিয়া নয়, কারণ এগুলো নিরাপদ নয়। এগুলো একই সাথে পিছলানোর সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তার জন্য আপনি যা করতেপারেন তা হল একটি ছিদ্রযুক্ত জ্যাকেট যা একই সাথে আপনাকে নিরাপদ ও ঠাণ্ডা রাখবে। গ্রীষ্মের সময় জিন্স টি শার্ট পড়া যায়।

আইন সম্পর্কে জানুনঃ এটি খুবই দরকারি বিষয়। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। এছাড়া রাস্তায় গাড়ি চালানোর বেসিক রুলস গুলো জানুন এবং মেনে চলুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুনঃ গাড়ি চালানোর সময় বাইকের নিবন্ধন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, বীমা সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখুন।

যাত্রীঃ মোটরসাইকেল চালানোর সময় ভয় পাইয়ে দেবে এমন যাত্রী পিছনে বসাবেন না। কারণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় যেমন ওভারটেকিং এর সময় তারা ভীতিকর কাজ করেএবং আপনাকে বড় বিপদে ফেলে দেবে।

মোটরবাইক চালানোর সময় করণীয়ঃ

মনোযোগঃ বাইক চালানোর সময় চালকের চোখ কান অবশ্যই খোলা থাকবে এর ফলে সে পরিষ্কার দেখতে পারবে যে তার রাস্তায় কোন গাড়ি আসছে কিনা এবং তার পিছন থেকে কোন গাড়ি আসছে কিনা কারণ দুটি বাইকের চালকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা অবশ্যই উঁচু শব্দের ইঞ্জিন ব্যবহার করবো, এটা আমদের নিরাপত্তার জন্যই। যার ফলে অন্য বাইক চালকেরা আমাদের খেয়াল করবে যে আমরা অন্যদিক থেকে আসছি । যখন আপনি লাইন পরিবর্তন করবেন সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য  ডানে ও বামে দু বার তাকাবেন ।

মোবাইলে কথা বলা ও হেডফোন পরিহার করুনঃ সম্পূর্ণ মনোযোগ ড্রাইভিং এর দিকে রাখা একটি অবশ্য পালনীয় নীতি । যেকোনো প্রকার অমনোযোগিতায় বাইক চালকের জন্য ক্ষতিকর এবং তা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে । বাইক চালানোর সময় কোন কিছু চিন্তা করা খুবই খারাপ । আপনার এম.পি থ্রি  প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা কারো সাথে ফোনে কথা বলা ড্রাইভিং হতে আপনার মনোযোগ সরিয়ে ফেলে তাই আপনার এগুলো পরিহার করা উচিত।

ট্রাফিক সিগন্যালঃ মোটর সাইকেল চালানোর সময় দূর্ঘনা এড়াতে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলুন। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে পৌঁছানোর আগে থেকে বাইকের গতি কমিয়ে ফেলুন। এতে আপনার তেল আর ব্রেক প্যাডেলের ক্ষয় হবে কম। হার্ডব্রেক আপনার দেহের জন্যওক্ষতিকর। এটা মাথায় রাখার চেষ্টা করুন। ভাঙা ও উঁচু রাস্তায় কম গতিতে বাইক চালান। যদি দেখেন, হঠাৎ স্পিডব্রেকার চলে এসেছে সামনে আর বাইকের গতিও কমাতে পারছেন না। তাহলে ওই অবস্থায় সিট থেকে আপনার কোমর একটু উঁচু করুন। এতে আপনার শরীরে ঝাঁকুনি অনেক কম লাগবে।

সিগন্যাল লাইটের সঠিক ব্যবহার করুনঃ লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই আপনার বাইকের ইন্ডিকেটর লাইট দিয়ে সঠিকভাবে সিগন্যাল দিন। বাইকের দুই পাশের আয়নায় (লুকিং গ্লাস) দেখুন, বাকি লেনগুলোর গাড়িগুলো নিরাপদ দূরত্বে আছে কি না। এরপর ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লেনে প্রবেশ করুন। বাইকের জন্য ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করা ঠিক নয়। মোড় নেওয়ার সময় অবশ্যই সিগন্যাল (ইন্ডিকেটর) ব্যবহার করুন। বাঁয়ে বা ডানে মোড় নিতে হলে সময় নিয়ে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট লেনে আসুন, তারপর মোড় নিন।

প্রযুক্তিঃ নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যান্টি লক ব্রেক তৈরী হয়েছে কিন্তু এখনও অনেক বাইক ওবাইক চালকের কাছে এটা নতুন । এটা না থাকার কারণে তারা দ্রুত ব্রেক করতে পারেনা যা অন্য গাড়ির চালকেরা পারে । যদি তাদের চাকা লক হয়ে যায় তবে তারা তাদের বাইকের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে দুর্ঘটনা ঘটে । এটা এড়ানোর জন্য একজন বাইকারকে ন্যূনতম দূরত্বে বাইক থামানোর অনুশীলন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর যখন সে দক্ষ হবে তখন সে অবশ্যই এটা রাস্তায় প্রয়োগ করবে ।

মাঝ রাস্তায় গাড়ি চালানো পরিহার করুনঃ কখনো সামনের গাড়ির চাকাগুলোর মাঝখান বরাবর গাড়ি চালাবেন না। কারণ অধিকাংশগাড়ি ঝাকুনি কম হওয়ার জন্য চাকাগুলো বড় গর্ত এড়িয়ে চলে। তাই যদি আপনি মাঝখান দেখে চলেন তাহলে আপনি গর্ত কিংবা ভাঙ্গা রাস্তায় পড়তে পারেন। ফলে দ্রুত গতির সময় আপনি আপনার নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।

ওভারটেকিং করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুনঃ বাস, ট্রাক অথবা কার ওভারটেকিং করার সময় কিছু দূরত্ব রাখা এবং সামনের দিকে তাকানো উচিত। যদি গাড়িটিকে ওভারটেকিং করার যথেষ্ট সুযোগ থাকে তাহলে হর্ণ, পাস লাইট ব্যবহার করে সামনে এগিয়ে যান।

কৃতজ্ঞতাঃ বাইক.কম.বিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.