পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে কাঁচা মরিচের

 পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে কাঁচা মরিচের

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজান শুরুর দুই মাস আগে থেকে বাজারে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সবকিছু। তবে আজ শুক্রবারের বাজারে কিছুটা মিশ্র প্রভাব দেখা গেছে। পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও মুরগিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম। এছাড়া অধিকাংশ পণ্যই আগের দামে স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম মানভেদে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ভারতীয় রসুন আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা থেকে ১৭০ টাকায়। গতকালও ভারতীয় রসুনের দাম ছিল ২২০ টাকা। এছাড়া দেশি রসুন ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম মানভেদে কেজি প্রতি ২ টাকা থেকে ৫ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ আজকের বাজারে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায় এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকা দরে। শুকনা মরিচ ২০ টাকা কমে কেজি প্রতি ১৮০ টাকা এবং হলুদ ১০ টাকা কমে কেজি প্রতি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। আজকের বাজারে পণ্যটি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া মুরগির দাম কেজি প্রতি বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৯৫ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, দেশি রসুনের দাম ১৩০ টাকা এবং আমদানি করা রসুনের দাম মানভেদে ২৬০-৩০০ টাকা দেখানো হচ্ছে। এছাড়া চিনি ৬৬-৭০ টাকা; পেঁয়াজ মানভেদে ২৫-৩২ টাকা; ছোলা ৯৫ টাকা; মুগ ডলা ১১০-১৩৫ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা; দেশি মুরগি ৩৭০-৪০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাজারে এসব দামের ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।

আজ বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনি ৭৬-৭৮ টাকা; ছোলা ৯০ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ৫ লিটারের ভোজ্য তেলের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০-৫১০ টাকা; প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০-১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনেকটা বাড়তি দামেই স্থিতিশীল চালের বাজার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, পারিজা চাল ৪৬ টাকা, মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৬ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২-৫৪ টাকা, বিআর২৮ ৪৮-৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫৪ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫৬ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮-৫০ টাকা, বাসমতি ৫৬ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬-৭৮ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৪১ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০(পুরাতন), নতুন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো কেজি ৫০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শশা ৪৫-৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

এছাড়া হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৫৮০-৬০০ টাকা; হাড়সহ গরুর মাংস ৪৯০-৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৩০-৭৫০ টাকা দরে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.