আশিক রণ’র দু’টি কবিতা

 আশিক রণ’র দু’টি কবিতা

দায় খণ্ডন

শৈশবের রূপালি নদীর মতো ছিলো আমাদের সেইসব দিন
জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়েছিলাম মধুবনি বাকল
চোখের হ্রদে অবাধ্য মাছের সন্তরণে ছিলো না কোনো নক্ষত্র,
তবুও আগামীর কোনো যুদ্ধের নেশায়
আমাদের মনে ওড়ে বিরহী গাঙ্গচিল।

এখানে আগুন ছিলো
শস্যে ও স্নেহে
ফসল বোনার একফালি গানে,
আগুনের তলদেশ নিড়িয়ে টেনে তুলেছি একযুগ শোক
তার পাশে বিবশ ছাই হয়ে শুয়ে আছে
শস্য স্নেহহীন এক কবির কংকাল।

যতোটা নির্মাণ ছিলো অথবা নিপুণ ক্ষয়
তার সবটুকুতে ছিলো ভিন্ন ব্যাকরণ
ছিলো বিপন্ন সঞ্চয়,
অথচ আমার ছিলো না দায় প্রচলিত-
রৌদ্র ও জলে,
যে জলে আগুন নয়
উত্তাপ জ্বলে।

সুদীর্ঘ শীতঘুমে ভেসে গেছে নিবীর্য প্রবাহের শ্বাস
উত্তাপে জ্বালিয়েছি নিষাদ উচ্ছাস,
নির্বিকার তুমি চলে গেলে আমি ফিরে আসি
যেমনটি কেউ বাসে নাকো আমি তেমনি ভালবাসি।।

 

প্রার্থনা-২

হে মহাজগৎ, আমাকে সেই স্বপ্ন দাও
দাও বার্তাবাহক কর্তৃক অনুকূল বাণী
অহম কোরবানির তরে চাই পবিত্র শস্যকণা,
আমার পদদ্বয়ের পক্ষাঘাত দূর হোক
বাহুদ্বয়ের আড়ষ্টতা মুক্ত হতে চাই
আলিঙ্গন করতে চাই আমিত্বের মৃত্যু;
চিরহরিৎ অরণ্যচারী হবার জন্য
চাই আকণ্ঠ তহুরাশরাব।

ফিরে যেতে চাই সেই বুনোতটে
যেখানে হৃদয় ডাকে ডাকে না শরীর
যেখানে নেই প্রেমের গাণিতিক সমীকরণ
যেখানে রয়েছে সব পাললিক মন।

ফিরে যেতে চাই সেই শ্রমের বাগিচায়
যেখানে বিনা মাপে করা যায় স্বর্ণ ভাস্কর্য
যেখানে সূর্যের প্রথম কিরণেই কৃতজ্ঞতার জল নামে চোখে
যেখানে স্ফটিক হৃদয় নিয়ে বসে আছে
মহা প্রেমময় নৈরাজ্যের কবি।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.