‘অমিমাংসিত সন্দেহযুক্ত বীর’ মুসা ইব্রাহিম ও কিছু কথা

 ‘অমিমাংসিত সন্দেহযুক্ত বীর’ মুসা ইব্রাহিম ও কিছু কথা

আব্দুল্লাহ আল সাফি : একটি ভাল সংবাদ দিয়ে লেখাটি শুরু করছি। পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহিম পাপুয়া নিউ গিনির যে পাহাড়ে আটকে ছিল, সেখান থেকে সে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার হয়ে ফিরে এসেছে।

সেলেব্রেটি পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহিমের এভারেষ্ট জয়ের দাবি করার পরে তাকে নিয়ে গণমাধ্যমের অনেক মাতামাতি হয়েছিল, হওয়াটাই স্বাভাবিক। এরপরে মুসা বিজ্ঞাপনে, বহুজাতিক পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, ইফতার পার্টিসহ পণ্যের লঞ্চিং অনুষ্ঠানে ফিতা কাটেন। অনেক অনেক টাকার ডিল। মুসা ইব্রাহিমের ওয়েব পেজে নানা কর্মকাণ্ডের স্পন্সর চেয়ে আহ্বান, পাঠ্য পুস্তকে মুসার বীরত্বের গল্প, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন ইভেন্টে সে অতিথি। প্রভাবশালী একটি পত্রিকার কয়েকজন প্রভাবশালী বন্ধু/বড় ভাইদের সঙ্গে অনেক অনেক সামাজিক-মানবিক-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সামাজিক মাধ্যমে সবাই দেখেছে। গর্বে বুক ভরে উঠেছিল দেশবাসীর। সেসময় অবশ্য আরেক এভারেষ্ট জয়ী (এভারেষ্ট জয় করে নামার পথে নিহত) সজল খালেদ প্রথম মুসার ‘এভারেষ্ট জয়’ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ ঘটান। কিন্তু ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ‘এভারেষ্ট জয়ীর তালিকায় মুসার নাম নেই’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচারিত/প্রকাশিত হওয়ার পরে সারাদেশ জুড়ে হইচই পড়ে যায়। টকশো, পত্রিকায় প্রতিবেদন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলেছে কয়েক মাস। সরকারের একটি দায়িত্বশীল বাহিনীর তোলা ফুটেজে মুসার ট্রলারে চড়ে ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতারের দৃশ্যও ওইসময় প্রচারিত হয়েছে টিভিতে।

ওইসময় মুসা সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ায় ছিল, ‘দেশে এসে সব বিষয়ের জবাব দেবো’ বলে বিতর্ক থামিয়ে রেখেছিল। মামলা পর্যন্ত হয়েছিল পাঠ্যপুস্তকে মুসার গল্পের ভুল নিয়ে (পরে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ভুল ঠিক করায় মামলা খারিজ হয়েছে)। মুৃসা ‘এভারেষ্ট জয় করেনি’ এই অভিযোগকারীদের তালিকায় এভারেষ্ট জয়ী পর্বতারোহী থেকে শুরু করে অনেকে মুসার কথিত মিথ্যাচারের প্রমাণ নিয়ে বসে ছিল। যদিও মুসা আর ‘দেশে ফিরে’ ওই বিষয়ে কোনো কিছু খোলাসা করেনি।

আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে, যারা মুসার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল তাদের অভিযোগ গুলো না ব্যাখ্যা দিয়ে, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছে মুসাকে সমর্থন করা শুভাকাঙ্খী-বন্ধুরা। সবমিলিয়ে ওইসময় মুসাকে ‘নিরব’ থেকে, দেশের বাইরে অবস্থান করে ধকল সামাল দিতে হয়েছে। তবে ওই ঘটনার পরে মুসাকে সামাজিক-মানবিক-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সেভাবে গণমাধ্যমে দেখা যায়নি।

মিডিয়া ট্রায়ালে ক্যামেরার সামনে বা পত্রিকার পাতায় মুসা ইব্রাহিমের এভারেষ্ট জয় নিয়ে যে সন্দেহ ও পাল্টা-যুক্তি সব মিলিয়ে ‘গুবলেট’ পাকিয়ে গেছে। ব্যক্তিগতভাবে ওইসময় আমি ৫/৬ টা প্রতিবেদন করেছিলাম। অনেক তথ্য-প্রমান-ভিডিও-ছবি অ্যানালিসিস দেখেছিলাম। সন্দেহ আমার মনে এখনও আছে।

মুসা আজ সকালে ফেসবুকে জানিয়েছে, ‘আল্লাহর রহমতে সে ফিরে এসেছে, খুব শীঘ্রই দেখা হবে।’ নিশ্চয় মুসাকে নিয়ে তার উদ্ধার হওয়ার গল্প প্রকাশিত হবে। মুসা দেশে এসে বিভিন্ন টকশোতে কথা বলবেন। বিপদের গল্প, আটকে থাকার গল্প, কষ্টের গল্প বলবেন। আবার হয়তো সে তার হারানো/থেমে থাকা সামাজিক-মানবিক-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন।

তবে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার আশাবাদ এইবার মুসা সেই অমিমাংসিত সন্দেহ দূর করে জাতির মনে চীর উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

মুসার জন্য শুভ কামনা।

(অনেকে এই লেখা পড়ে জানতে চাইবেন, আমার কাছে কী প্রমাণ আছে, কেনো এসব বলছি, ব্লা ব্লা ব্লা…. তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একটি জাতীয় তদন্ত কমিটি টাইপ করে হলেও এ বিষয়ের সমাধান হওয়া উচিত। যে কমিটিতে মুসার পক্ষের লোকজনসহ নানা দায়িত্ববানরা থাকতে পারেন। আমার দেখা ‘তথ্য-প্রমান-ভিডিও-ছবি অ্যানালিসিস’ ওই কমিটির সামনে উপস্থান হতে পারে সেখানে। শুধু শুধু সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য-প্রমাণের কী দরকার। আর আমি বা অন্য কেউ সেই ‘তথ্য-প্রমান-ভিডিও-ছবি অ্যানালিসিস’ দেখালেই/বললেই কী মুসা মানবেন বা মানবেন না, এমনতো না। দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে। পর্বতারোহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মানজনক ক্রিড়ায় কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না।)
লেখক : সাংবাদিক (লেখাটি ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া)

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.