নিজস্ব প্রতিবেদক : শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানের বাড়ি থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান অর্থসূচকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাড়িটি ইউএনডিপির সহযোগী সংস্থা ইউএনডিএসএস এর নিরাপত্তা বিভাগের পরামর্শক নেপালি নাগরিক সন্তোষ ধুঙ্গানা ব্যবহার করতেন।

ড. মইনুল খান জানান, চলমান চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ অভিযানের অংশ হিসাবে কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহারের দায়ে (প্রিভিলেজড পার্সন) গাড়িটি জব্দ করা হয়।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১০টার দিকে গুলশানের ১১৭ নম্বর রোডের শিহাবস অ্যাট্রিয়ামে (ফ্ল্যাট নং-সি১, বাসা নং-৯/সি ১ম তলা) অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়।

ফ্ল্যাটের মালিক কালাম রিয়েল এস্টেট সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল রিলোকেশন অ্যাসিসটেন্ট সার্ভিসেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সালমান কালাম নামের এক ব্যক্তির।

গাড়ি জব্দের সময় তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন গাড়িটি তার সাবেক ভাড়াটিয়া নেপালি নাগরিক সন্তোষ ধুঙ্গানা ব্যবহার করতেন।

সন্তোষ ধুঙ্গানা ইউএনডিপির সহযোগী সংগঠন ইউএনডিএসএস (ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিপার্টমেন্ট অব সেফটি এন্ড সিকিউরিটি) নিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের প্রথমভাগে স্থায়ীভাবে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

সালমান কালাম আরও জানিয়েছেন, গাড়ির ব্যাপারে ইউএনডিপি কর্মকর্তা মেজর শরীফ অবগত আছেন। গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা নিয়ে যাচ্ছে বলে শরীফকে জানান তিনি।

 এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে বলেও তিনি মেজর শরীফকে অবহিত করেন। গাড়িটিতে কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল।

গাড়ির চেসিস নম্বর সংগ্রহ করে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাড়িটি বাংলাদেশে প্রিভিলেজড পারসন কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস আইনের বিধান অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে এটির নিষ্পত্তি না করে ধুঙ্গানা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

শুল্ক গোয়েন্দার কাছে তথ্য ছিল, ধুঙ্গানা গাড়িটি অবৈধভাবে এর বর্তমান ব্যবহারকারী জনৈক নন প্রিভিলেজড পারসনের কাছে হস্তান্তর করে এর মাধ্যমে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দার চলমান অভিযানের ফলে গাড়িটি প্রায় ছয় মাস যাবত গুলশানের এ বাসার গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা হয়।গাড়িটির বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকা।

গাড়িটি বিএমডব্লিউ-৭ মডেল ও ৪৪০০ সিসি ক্যাপাসিটির।কালো রঙের (স্যাফায়ার মেটালিক) গাড়িটি ২০০১ সালের জার্মানির তৈরি। এর রেজিস্ট্রেশন নং- ঢাকা মেট্রো -অ- ০০-০৪৪৩।

বিআরটিএ যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে এ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুয়া বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত  ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান মহাপরিচালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.