‘যৌন ভাস্কর্যের’ মন্দিরে কামসূত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্ক

 ‘যৌন ভাস্কর্যের’ মন্দিরে কামসূত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্ক

ডেস্ক : ‘যৌন ভাস্কর্যের’ জন্য সুপরিচিত ভারতের কিছু মন্দিরে প্রণয় ও যৌনতা নিয়ে লেখা প্রাচীন বিখ্যাত বই ‘কামসূত্র’ বিক্রি বন্ধের দাবি নিয়ে দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে। বিশ্ব-খ্যাত ‘খাজুরাহো’ মন্দিরগুলোতে ওই বই রাখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বজরং সেনা গোষ্ঠীর নেতা। এরপর এনিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। খবর বিবিসি’র।
বজরং নেতা জ্যোতি আগারওয়াল দ্য হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘এসব মন্দিরের ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। আপনি কিভাবে এই পবিত্র আঙিনায় কামসূত্র বিক্রি সমর্থন করতে পারেন? আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে কোন ধরনের নৈতিক মূল্যবোধ রেখে যাচ্ছি।’
বজরং দল এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের পবিত্র স্থানে এই বই বিক্রি ভারতের সংস্কৃতির প্রতি অপমানের।
কিন্তু এরপরই টুইটার ব্যবহারকারীরা দৃশ্যত মন্দির ও বই ইস্যুতে দ্বিচারিতার অভিযোগ এনে কথা বলতে শুরু করেন। এসব মন্দির তার ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে নারী ও পুরুষের বিভিন্ন যৌন অবস্থানের অনেক ভাস্কর্য খোদাই করা আছে।
এক টুইটার ব্যবহারকারী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ কথা বলার আগে তুমি কি খাজুরাহো মন্দিরের দেয়ালের দিকে তাকিয়েছ?’
আরেকজন কয়েকটি ভাস্কর্যের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ওই বেমানান মুহূর্ত যখন তারা খাজুরাহোতে কামসূত্র বিক্রির প্রতিবাদ করে, মন্দিরগুলোর দিকে চোখ তুলে তাকাও।’
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রশ্নের জবাবে বজরং নেতা আগারওয়াল বলেন, মন্দিরে এসব ভাস্কর্য থাকার বিরোধিতা তিনি করছেন না, তবে তিনি চান না এগুলোর বেশি বেশি প্রচার-প্রসার করা হোক।

তার এমন বক্তব্য সত্ত্বেও ডানপন্থী বজরং সেনা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, অনেকে ‘খাজুরাহো’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছে।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ‘খাজুরাহো’ মন্দিরগুলো বিশ্বের লাখ লাখ পর্যটককে আকর্ষণ করে। ভারতের মধ্য প্রদেশের কেন্দ্রে এ ধরনের প্রায় ২০টি মন্দির রয়েছে। হাজার বছর আগে নির্মিত এসব মন্দির হিন্দু এবং জৈন ধর্ম অনুসারীদের।
অনেকে মনে করছেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলগুলো শক্তিশালী হয়েছে। ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি অনেককে ঠাট্টা-মশকরা করতেও দেখা গেছে।
ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাগীশ বিষ্ণু ঠাট্টা করে লিখেছেন, ‘সন্তান উৎপাদন ভারতীয় সংস্কৃতি বিরোধী। অনুগ্রহ করে যৌনসংসর্গ ব্যতীত সন্তান জন্মদানের নৈতিকভাবে অনুমোদিত উপায় ব্যবহার করুন।’

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.