ক্রীড়া ডেস্ক : শিরোনামে মনে হতে পারে খেলায় অসাধ্য সাধনই বোধহয় করেছেন পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ যার দরুন জয় পেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু বিষয়টা ঠিক সে রকমের কিছু ছিল না। মূলত বাজে ফিল্ডিং একেরপর এক ক্যাচ মিস সুবাদে বারংবার প্রাণ ফেরত পেয়ে সরফরাজ খেলার শেষ প্রান্তে এসেও ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পেরেছেন।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার বাঁচা-মরার ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫ বল বাকি থাকতেই ২৩৬ রানে গুটিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। তবে স্কোরটা বড় না হলেও বেশ ভালোই লড়াই চালিয়েছিলেন লঙ্কান বোলাররা। কিন্তু একের পর এক ক্যাচ মিস আর বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে শেষপর্যন্ত হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে।

৩ উইকেটের ঘামঝরানো জয় দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছে পাকিস্তান।

উদ্বোধনী জুটিতে ৭২ রান যোগ করে শুরুটা অবশ্য ভালোভাবেই করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজহার আলী ও ফখর জামান। দ্বাদশ ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন নুয়ান প্রদীপ। ৩৬ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরে গেছেন জামান। কয়েক ওভার পরে বাবর আজম ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজও ধরেছেন সাজঘরের পথ।

দ্বাদশ ওভারে ওপেনার আজহার ফিরে গেছেন ৩৪ রান করে। ২৫ থেকে ৩০- এই ছয় ওভারের মধ্যে পাকিস্তান হারিয়েছিল আরও তিনটি উইকেট। একে একে সাজঘরের পথে হেঁটেছিলেন শোয়েব মালিক, ইমাদ ওয়াসিম ও ফাহিম আশরাফ। ৩০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ১৬২/৭। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান। এ সময়ে শ্রীলঙ্কার জয়টাই মনে হচ্ছিল অবধারিত।

কিন্তু এরপর বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস করেছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা। আর এই ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়েই হারতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। ৬১ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন সরফরাজ আহমেদ। মোহাম্মদ আমির অপরাজিত ছিলেন ২৮ রান করে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিরোশান ডিকওয়েলার ৭৪, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ৩৯, আসেলা গুনারত্নের ২৭ ও সুরঙ্গা লাকমলের ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে স্কোরবোর্ডে ২৩৬ রান জমা করেছিল শ্রীলঙ্কা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে তিনটি দল। ভারত, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। বাকি রয়েছে কেবল একটি দল। আজ সেটিও নির্ধারণ হয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল পৌঁছে যাবে সেমিফাইনালে।

শ্রীলঙ্কা দল: নিরোশান দিকভেলা, দানুস্কা গুনাথিলকে, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, আসেলা গুনারত্নে, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা, সুরঙ্গা লকমাল, লাসিথ মালিঙ্গা ও নুয়ান প্রদীপ।

পাকিস্তান দল: আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.