নিজস্ব প্রতিবেদক : অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথমদিন সোমবার টিকেট প্রত্যাশী যাত্রীদের ভিড় তেমন ছিল না। তবে মঙ্গলবার এ চিত্র ছিল ভিন্ন। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেল স্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

সকাল ৮টা থেকে ২২ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এর আগে ৭টার দিকেই কাউন্টার ঘিরে প্রতিটি সারি রাস্তায় পর্যন্ত পৌঁছায়। সংকুলান না হওয়ায় পরে সাপের মতো আঁকা-বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় টিকিট প্রত্যাশীরা।

কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, আমরা বিষয়টা আগে থেকেই জানতাম। প্রতি বছরই এমন হয়। প্রথমদিন ভিড় না থাকলেও দ্বিতীয় দিন থাকে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

তিনি বলেন, টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন অনেক বড় হওয়ায়, সীমিত টিকিটের কারণে অনেকে টিকিট পান না। এর জন্যই কার আগে কে লাইনে দাঁড়াবে তার প্রতিযোগিতা থাকে মধ্যরাত থেকে।

প্রতিদিন ৫৫ হাজার টিকিট কমলাপুর স্টেশন থেকে দেয়া হচ্ছে। কাউন্টার থেকে একযোগে  এসব টিকিট ছাড়া হয়। তবে কিছু কিছু ট্রেনের টিকিট দুপুর নাগাদ শেষ হয়ে যায়। ঈদে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা থাকে খুব বেশি।

সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, বুধবার ২৩ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকট দেয়া হবে। এ দিন ভিড় আরও বাড়বে। তবে গতবারের চেয়ে এবার যাত্রীরা অনেক বেশি টিকিট পাচ্ছেন। কারণ ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা নতুন বগি রেলে সংযুক্ত হওয়ায় পুরো রেলওয়েতে প্রায় ৫০ হাজার আসন বেড়েছে।

রেলের এ কর্মকর্তা টিকিট কালোবাজারি রোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, নকল টিকিট বিক্রি হতে পারে। তাই কাউন্টার ছাড়া টিকিট না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এবার ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নতুন বগি সংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিতে কাজ করছে রেল। টিকিট কালোবাজারি রোধে রেল সচেতন আছেন বলে জানান তিনি।

রামপুরা থেকে টিকিট কাটতে আসা দু’বোন শিউলি শম্পা জানান, তারা টিকিট নিতে ভোররাতে এসেছেন। সিল্ক সিটি ট্রেনের টিকিট নিতে আগ্রহী ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত দু’জনে ৬টি টিকিট কিনতে পেরেছেন।

তবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার লাইনে দাঁড়ানো টিকিট প্রত্যাশী অনেকেই কাঙখিত টিকিট পাননি।

ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজুল জানান, সড়ক পথে আর ভ্রমণ নয়। গতবছর সিরাজগঞ্জ যেতে ৭-৮ ঘণ্টা বিলম্ব করতে হয়েছে। এবার পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠানোর জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে সোমবার ইফতারি করেই লাইনে দাঁড়িয়েছি।

টিকিট কাটতে পেরেছেন জানিয়ে তিনি বললেন, এখন তিনি বেশ খুশি। ছোট্ট একটি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে থেকে যেহেতু নির্দিষ্ট টিকিট দিচ্ছে সে তুলনায় প্রতিটি কাউন্টারের সামনে কোনো ট্রেনের কতটি টিকিট দেয়া হবে তা লিখে দেয়া দরকার। এতে অনেকেই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবে।

এ বিষয়ে রেল কর্মকর্তারা জানান, স্টেশন চত্বরে কোনো ট্রেনের কতটি টিকিট দেয়া হবে তার তথ্য দেয়া হয়েছে। তবে টিকিট প্রত্যাশীরা সবাই টিকিট কিনতে চান। যে কারণে হুড়োহুড়ি ও বিড়ম্বনার সৃস্টি। তবে যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত ৬৫ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে দেয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও ২৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি চলছে। এর বাইরে ১০ শতাংশ টিকিটের ৫ শতাংশ রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাকি ৫ শতাংশ টিকিট ভিআইপিদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.