বেসরকারি ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্ক করল ইউজিসি

 বেসরকারি ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্ক করল ইউজিসি

ডেস্কঃ মামলা-মোকদ্দমা, মালিকানায় দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যায় থাকা বেসরকারি ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। রবিবার ইউজিসির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একগণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইবাইস ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড দুই ভাগে ভাগ হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করেছে। এই দ্বন্দ্ব নিরসনে ইউজিসির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ আদালতে মামলা করায় ওই কার্যক্রম স্থগিত আছে।

আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি সরকার বন্ধ করে দিলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ঢাকার বারিধারার ৫৪/১, প্রগতি স্মরণীর ক্যাম্পাস চলতে পারে। কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় সরকার বন্ধ করে দিলেও ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে শর্ত সাপেক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শর্ত পূরণ করতে পারেনি। আদালতে ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে মামলা চলছে।

অননুমোদিত ক্যাম্পাস: সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ঢাকার উত্তরা, খুলনার বায়রা, কুষ্টিয়ার মজমপুর, ঢাকার ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোড, রংপুরের লালবাগের কারমাইকেল কলেজ রোড, চট্টগ্রামের ওআর নিজাম রোড এবং চট্টগ্রামের চকবাজারের গুলজার টাওয়ারের ক্যাম্পাস অননুমোদিত।

এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাংয়ের ৬৩, সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডির ক্যাম্পাসও অননুমোদিত।

ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব-মামলা: ইবাইস ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে আদালতে মামলা চলছে।

শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পায়নি: কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকার কেরাণীগঞ্জের রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের রূপায়ন এ কে এম শামসুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় এবং আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেলেও এখনও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পায়নি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়: এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি না হতে গত ২৬ এপ্রিল ইউজিসি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করে রিট দায়ের করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।

পরবর্তীতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবারও রিট করলেও কমিশন আদালত থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা চিঠি পায়নি। কোর্ট থেকে মামলার আরজি উঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কমিশন গত ৪ জুন আইনজীবীকে চিঠি দিয়েছে।

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়: দারুল ইহসানের সব ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি। ফলে কেনো বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার না হওয়ার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে ইউজিসি।

দেশে ৯৫টি বেসরিকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ৮৯টিতে; এরমধ্যে ৪৯টিতে উপাচার্য, ১৮টিতে উপ-উপাচার্য এবং ৪০টিতে কোষাধ্যক্ষ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.