বাড্ডা থানার ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 বাড্ডা থানার ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আদালত প্রতিবেদক : চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগ এনে রাজধানীর বাড্ডা থানার ওসিসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রবিবার ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলা করেন নুরুন্নাহার নাসিমা বেগম নামে এক নারী।

পরে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম এই অভিযোগের তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামী ৭ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন- বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল, এসআই শহীদ, এএসআই দীন ইসলাম ও আবদুর রহিম, জাহানারা রশিদ, রোকেয়া রশিদ, আতাউর রহমান কায়সার ও শুকুর আলী।

বাদীর আইনজীবী মো. ইস্পাহান মির্জা বলেন, মামলার আসামি জাহানারা রশিদ বাদীর (নুরুন্নাহার নাসিমা বেগম) সতিনের মেয়ে। তাদের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা চলছে। জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। এ কারণে তিনি ডেসকোর কর্মকর্তাদের ডেকে বাদীর বাসা থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে বলেন। কিন্তু বাদী এতে রাজি না হলে উল্টো জাহানারা বিদ্যুৎ অফিসের দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

পরে বাড্ডা থানা-পুলিশের সহযোগিতায় জাহানারা বাদীকে ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তী সময়ে ওসির নির্দেশে এএসআই দীন ইসলাম ও এসআই শহীদ বাদী এবং তার সন্তানদের মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন।

গত ২৬ মে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা ওসির নির্দেশে বাদীর ভাড়াটেদের বের করে দিয়ে ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়ে যান। পরে থানায় ওই চাবি নিতে গেলে বাদীর কাছে পুলিশ ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সর্বশেষ শনিবার ওসি জলিলের নির্দেশে পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ ও দীন ইসলামসহ পুলিশের আরও পাঁচ-ছয়জন সদস্য বাদীর ছেলে রবিন দেওয়ানকে জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে বলেন। রবিন এতে না বললে, দীন ইসলাম ও শহীদ তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পরে হাতুড়ি দিয়ে মিটারের বাক্সের তালা ভেঙে মামলার আসামি বিদ্যুৎ মিস্ত্রি শুকুর আলীর মাধ্যমে জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ওসির আদেশে আসামিরা বাদীর বাসায় এসে তার ছেলেকে আসামি জাহানারা রশিদের বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বলে। বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় আসামিরা তার ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে, বাসায় ভাঙচুর করে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার এবং জমির কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ সময় আসামিরা বাদীর ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেয়।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.