কথিত প্রগতিশীলদের দৌরাত্ম্য, ধ্বংসাত্মক চেতনা এবং আমরা
0.0Overall Score
Reader Rating: (0 Votes)

রাকিব হাসান : এদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের। পৃথিবীর খুব কম দেশেই এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির আছে।এরপরও যারা গুরু আর লঘুর মান বিচারে সংখ্যার রাজনীতি করেন তারা পক্ষপাতদুষ্ট।
যখন মন্দির-প্রতিমা ভাঙে, পুরোহিত রক্তাক্ত হয়, তাঁরা বিবৃতি দেন। যখন পাহাড়ে ঘর ভস্মীভূত হয়, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা হয়, তাঁরা সেখানে পরিদর্শনে যান, বিবৃতি দেন। যখন গীর্জার ফাদার আক্রান্ত হয়, তারা সোচ্চার হন; দেশী-বিদেশি গণমাধ্যমে এমনভাবে বক্তব্য দেন যেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে গেছে!!কিন্তু যখন মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, কিংবা ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়, তারা প্রতিবাদ মুখর হননা; মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন। আর কেউ যদি প্রতিবাদমুখর হয়, তবে তাকে ‘মৌলবাদী’ তকমা দিয়ে থামিয়ে দিতে ব্রতী হন। এই হচ্ছে আমাদের কথিত প্রগতিশীলদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার নমুনা!!

হে চেতনাবাজ, তিনটা ধর্মের প্রতি আপনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা দেখালেন, ত্রাতা হিসেবে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে উদ্ধার করলেন; তাহলে একটা ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা করলেন কেন? এই জায়গাটিতে কেন নিরপেক্ষ থাকতে পারলেন না? কীসের স্বার্থ আপনার? মুখে উদারতা, ধর্ম নিরপেক্ষতা আর মানবতার বুলি আওড়াবেন অথচ বাস্তবে নিজেরাই উগ্রবাদী প্রতিক্রিয়াশীলের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করবেন; এটাতো হতে পারেনা। সেকারণেই ‘কট্টর’ ও ‘উগ্রবাদী’ শব্দ দুটি আপনাদের মতো ভন্ড প্রগতিশীল ও চেতনা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করাটাই যুতসই।

এই চেতনাবাজদের তনু হত্যার বিচারের দাবীতে সোচ্চার হতে দেখিনি।গাজীপুরে বখাটের উত্যক্তের প্রতিবাদে বাবা-মেয়ে যখন রেলের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। তখনও তারা জাগরণ চত্বরে সমবেত হবার প্রয়োজন অনুভব করেন না। একবার ভাবুনতো, ঐ বাবা-মেয়ে যদি অন্য কোন ধর্মের হতো তাহলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দোহাই দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে এতদিনে হয়তো রাস্তাঘাট-ই অচল করে দিতো!

আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, কথিত এই প্রগতিশীলরা হোলি উৎসবে রঙ খেলায় মেতে উঠেন, পাঠা বলিতে শরিক হয়ে ঐ মাংসের স্বাদ নিতে পারলে ধন্য হন, বৌদ্ধ-পূর্নিমা উৎসবে ফানুস উড়াতে সবার আগে ছুটে যান, এমনকি বড়দিনে কেক কেটে সান্তাক্রসের সাথে ছবি উঠাতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।অথচ এই প্রগতিবাদীরাই রমজানে অফিসে-রাস্তায় প্রকাশ্যে পান করেন! কোরবানীর ঈদে পশু জবাইতে নাক সিঁটকান; ‘পশু হত্যা অমানবিক’ কিংবা ‘পশুর রক্তে ঢাকা শহর ভেসে গেছে’বলে স্ট্যাটাস দেন!! এমনকি সেঞ্চুরী উদযাপনে ক্রিকেটার মাহামুদুল্লাহ কেন মাঠে সিজদাহ দিলেন, সেটা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এই হচ্ছে আমাদের আধুনিকতা আর প্রগতিশীলতার চিত্র!! ভন্ডামী আর কাকে বলে !!

দু:খজনক হলেও সত্য, এই চেতনাব্যবসায়ীদের বেশিরভাগের নাম দেখে মনে হয় তারা মুসলিম।কিন্তু নিজের ধর্মের প্রতি বিষোদগার করে তারা কথিত সুশীলদের কাতারে যেতে মরিয়া। সেকারণে নিজের ধর্মকে গালি দিয়ে তাকে জাতে উঠতে হবে! যেকোনভাবেই প্রগতিশীল, তরুণ প্রজন্মের কন্ঠস্বর ‘তকমাটি’ গায়ে লাগাতে হবে, এরপর টকশোতে গিয়ে জাতিকে উদ্ধারের নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিতে হবে!! এটাই যেন তাঁদের মূল লক্ষ্য! গন্তব্য!

মজার বিষয় হচ্ছে; এসব চেতনাবাজের সংখ্যা হাতেগোনা। তবে এরা ভোকাল। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- সব ক্ষেত্রে তারা বেশ সক্রিয়। তাদের কার্যক্রম দেখে মনে হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোন সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন!! তাদের উস্কানীতে অতিষ্ট হলেও এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ কেবলই নিরব-নিশ্চুপ দর্শক। তবে ঐ ভন্ডদের বোঝা উচিত এই সুনসান নিরবতা, শুধু নিরবতাই নয়; সুনামীর পূর্ব লক্ষণ।

লেখক: সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.