ডেস্ক : কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব সম্পর্ক ছিন্ন করার পর গুঞ্জন উঠেছিলো হয়তো উমরাহ পালনে বাধা দেওয়া হবে দেশটির নাগরিকদের। কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে আসে যে কাতারীয় নাগরিকদের হজ ও উমরাহ পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে উমরাহ পালনরত মুসলিমদের বরাতে সৌদি গেজেট জানিয়েছে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, মক্কায় কোনও ব্যক্তিকেই তার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় না।

উমরাহ পালনরত মরোক্কোর নাগরিক রশিদ আল মিনসাউই বলেন, ‘আমরা এমন কোনও কিছুর মুখোমুখি হইনি। প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম এই মসজিদে প্রবেশ করছে। এখন পর্যন্ত কোনও বর্ণ বা জাতীয়তার কারণে কাউকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি।

একইরকম কথা বলেন তুরস্কের নাগরিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আমরা সবাই মুসলিম। প্রবেশের সময় আমাদের কখনেই জিজ্ঞাসা করা হয় না। কারণ এটা গুরুত্বপূর্ণ না। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা একটা উদ্দেশ্যেই্ এখানে আসি। আল্লাহ’র ঘরে।’

৫ জুন জঙ্গিবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ। এরপর কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় উমরাহ পালনরত কাতারের নাগরিকরা সমস্যার সম্মুখীণ হচ্ছেন।

কাতারভিত্তিক পত্রিকা আল শার্‌ক জানিয়েছে, দেশটির ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন (এনএইচআরসি) কাতার থেকে হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া নাগরিকদের কাছ থেকে এমন অনেকগুলো অভিযোগ পেয়েছে। কাতারের পক্ষ থেকেও এই অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা এমনটা করেনি। ব্যক্তিগত প্রশ্নে কারও হজে বাধা দেয় না তারা। সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে।

উমরাহ পালনরত মিসরের এক নাগরিক জানান, ‘আমরা আসার পর থেকে মসজিদে যাওয়া আসা করছি। কেউ থামায়নি। দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা কোনও কাগজপত্র দেখতে চান না। শুধু নিরাপত্তার জন্য ব্যাগের তল্লাশি করেন।’

মক্কার অপরাধ তদন্ত বিষয়ক বিভাগের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মুহাম্মদ আল মিনশাওয়াই বলেন, ‘সবদেশের ও শ্রেণীর নাগরিক ও হাজিদের সেবা করতে পেরে সৌদি আরব গর্বিত। আমরা কোনওরকম বৈষম্য করি না। সবদেশের নাগরিকই আমাদের কাছে সমান।’

তিনি আরও বলেন, গ্র্যান্ড মসজিদে হাজার হাজার মানুষ নামাজ আদায় করেন। এখান থেকে কে কোন দেশের সেটা খুঁজে বের করা অসম্ভব।

তিনি জানান, কাতারের উমরাহ ও হজ পালনকারীদের সবরকম সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন যেন এখানে প্রভাব না পড়ে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

সৌদি আরব্ উমরাহ ও হজ পালনকারীদের সবরকম সহায়তা দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.