নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,‘আমরা ভিশন ২০৩০ দিয়েছি। আওয়ামী লীগ বলে তাদের ভিশন নাকিবিএনপি চুরি করেছে। তাদের তো কোনো ভিশন নেই। তারা চুরির চিন্তায় থাকে। আমাদের ভিশন আর তাদের ভিশন এক হতেপারে না। আমাদের চিন্তা আর তাদের চিন্তা এক নয়।’

ঢাকার গুলশানে ইমানুয়েলস সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে জিয়া বলেন, ‘কেন তারা ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজকে কেন ৭০ টাকা কেজি চাল খেতে হয়। এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুই বেলা পেট পুড়ে খেতে পারে না। তারা রিলিফ পযর্ন্ত দেয় না। রিলিফ চুরির অভ্যাস আওয়ামী লীগের স্বাধীনতার পর থেকে। তাদের এই অভ্যাস কোনো দিনও যাবে না। এরা চোর। এরা ভোটে চোর, গম চোর, চাল চোর আরো নানা বিধি চুরির অভ্যাস আছে।’

‘আর কয়েকটা মাস আছে যত পারেন লুটে পুটে চলে যান এদেশে থাকার আর সময় পাবে না। ২০১৮ সালে দেশের জনগণের বছর হবে, গণতন্ত্র, উন্ণয়ন ও শান্তি বছর হবে; যোগ করেন তিনি।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপিকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না। এদেশে নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে নয়। হাসিনার অধীনে নির্বাচন কয়েক বার দেখেছি। সারা পৃথিবী বলেছে ২০১৪ সালের বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। একটা নির্বাচন কমিশন ছিল রকিব উদ্দিন, তাকে দিয়ে ঘোষণা দিয়েছে। যে এত ভাগ ভোট পড়েছে । এসব ছিল মিথ্যা কথা।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে এমন নির্বাচন বাংলাদেশ হবে না। নির্বাচন হবে সেই নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, সকাল রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করবে।’

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের বলে। আসলে যারা যুদ্ধ করেনি মুক্তিযুদ্ধে যাদের অংশ গ্রহণ ছিল না। সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল তারা আজকে বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। তারা কথায় কথায় কিছূ না হলেও অমুকে রাজাকার, অমুকে এই করেছে তাকে দরুন তাকে শাস্তি দেওয়া হউক, বিচার করুণ। বিশেষ করে বিএনপিতে যারা জনপ্রিয় তাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যে মুক্তিযোদ্ধের সময় সে এটা করেছে, সেটা করেছে, রাজকারি করেছে। তাদেরকে নাম দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এটা নতুন করে ষড়যন্ত্র। এলাকায় এলাকায় খোঁজ নিচ্ছে তাদের( আওয়ামী লীগ) কোথায় জনপ্রিয়তা নেই। বিএনপির কোথায় কোথায় জনপ্রিয়তা সেই সব নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জানে তাদের কত জনপ্রিয়তা। এই ১০ বছরের যে লুট করেছে। এখন তাদের চলাফেরার অবস্থা নেই, একেক জনের এমন ‍ওজন বেড়েছে এদের নির্বাচন তো দুরের কথা পালাবারও অবস্থা নেই।’

শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারনার প্রসঙ্গে টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নিজেকে সঘোষিত প্রধানমন্ত্রী একেক জায়গায় যাচ্ছেন আর নৌকার প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্য দিকে বিএনপির ধর্মীয় মাহফিলেও বাধা দিয়ে যাচ্ছে। এর কারণটা কি তারা চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। বিএনপির নির্বাচনে আসলে তাদের যে কি করুণ পরিণতি হবে তারা গোপনে খবর নিয়ে তা জেনে গেছে। সেই জন্য্ তারা নানা হয়রানি করছে যাতে বিএনপি নির্বাচনে না আসে। মামলা-হামলা নানা রকম হয়রানি করে দ্রুত সাজা দেওয়া ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে আরোও বক্তব্য দেন- এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল(অব.) অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহার ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।

ইফতার পার্টিতে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নেমান, সেলিমা রহমান, শামছুজ্জামান দুদু, মজিবুর রহমান সারেয়ার, শ্যামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, সাদেক খান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.