ভর্তির দুশ্চিন্তায় ২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
0.0Overall Score
Reader Rating: (0 Votes)

বিশেষ প্রতিনিধি : একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য প্রথম মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও ভর্তি নিশ্চিত করেনি দুই লাখ নয় হাজার শিক্ষার্থী। প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তির জন্য মনোনীত হয় ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জন। কিন্তু ভর্তি নিশ্চিত করেছে দশ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ জন। শনিবার দুপুর বারোটা পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চিতের সময় শেষ হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় ভর্তি কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বারবার নির্দেশ দেয়ার পরেও যারা নিজেদের ভর্তি নিশ্চিত করেনি তাদের নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেছেন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা। এবারের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, গত ৬ জুন থেকে ৮ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি নিশ্চিতের সময় ছিল। কিন্তু আশানুরূপ নিশ্চিত না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ১০ জুন দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিশ্চিতের সুযোগ দেয়া হলেও তা গ্রহণ করেনি প্রায় দুই লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী।

যারা নিশ্চিত করেনি তাদের জন্য কী করণীয়- তাদের আরও সময় দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন বলেন, ‘ভর্তি নিশ্চিতের জন্য আর সময় বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে এখনও শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে তারা নতুন করে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।’

গত ৬ জুন থেকে শুরু হয় কলেজ ভর্তির প্রথম মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ শিক্ষার্থীর বুকিং প্রক্রিয়া।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার ভর্তি নিশ্চিত করতে হলে নিশ্চিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই হবে। এক্ষেত্রে টেলিটক, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৮৫ টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনের সব প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড ও ভর্তির ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভর্তি নিশ্চিত কার্যক্রম শেষ হলে মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন নেয়া হবে। এ সময় যেসব শিক্ষার্থী পছন্দমতো কলেজ পায়নি এবং যারা কোন কলেজই পায়নি তাদের সবাই আবেদন করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী একটি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ডের ফি বাবদ ১৮৫ টাকা প্রদান করে ভর্তি নিশ্চিত করতে না পারলে তার মনোনয়ন বাতিলের পাশাপাশি তার আবেদনও বাতিল হয়ে যাবে। এটি কেবল প্রথম মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া সকল শিক্ষার্থীকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

প্রথম পর্যায়ে মনোনীত শিক্ষার্থীদের নিশ্চিতের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে মাইগ্রেশনের আবেদন ও নতুন আবেদন করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে ভর্তি নিশ্চিতকারীরাই কেবল অন্য কলেজে মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারবে। আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় প্রত্যাশিত কলেজে (মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করা) মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে আসন শূন্য না থাকলে মাইগ্রেশন আবেদনকারীর প্রথম মেধাতালিকায় সুযোগ পাওয়া কলেজেই মনোনয়ন বহাল থাকবে।

দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ জুন। এরপর ১৪ ও ১৫ জুনের মধ্যে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় মনোনীতদের নিশ্চিত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মনোনীতদের নিশ্চিতের পর তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৬ ও ১৭ জুন। সর্বশেষ বা তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ জুন। সর্বশেষ মনোনীতদের নিশ্চিত সম্পন্ন করতে হবে ১৯ জুনের মধ্যে। আর ২০ থেকে ২২ জুন প্রথম পর্যায় এবং ২৮ থেকে ২৯ জুন দ্বিতীয় পর্যায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কলেজগুলো। ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।

অনলাইন ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে গত ৯ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলে ভর্তির আবেদন। এরপর ৩০ মে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হয়। এতে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ৩০ ও ৩১ মে পর্যন্ত ভর্তির আবেদন করার সুযোগ পান।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ১৩ লাখ দশ হাজার ৯৪৭ জন। আর ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জন। প্রথম পর্যায়ে ৬১ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.