চালের লাগামহীন দামে বিপাকে ক্রেতারা
0.0Overall Score
Reader Rating: (0 Votes)

বিশেষ প্রতিনিধি : কয়েক মাস ধরে দেশের চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পবিত্র রমজান মাসেও সে অস্থিরতা থেকে মুক্তি পায়নি ক্রেতা সাধারণ। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে সব ধরনের চালের দাম। ফলে অসুবিধায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আয়ের মানুষেরা। শুক্রবার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজরের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বাজারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তে দেখা গেছে। প্রতি কেজি মোটা চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৪৫ টাকার উপরে। রাজধানীর হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল কেজি প্রতি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, পারিজা চাল ৪৫-৪৮, মিনিকেট একটু ভাল মানের ৫৮-৬৪, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২-৫৪, নাজিরশাইল ৫২-৫৬, একটু ভাল মানের নাজিরশাইল ৫৬ থেকে ৬২টাকায়,পাইজাম ৪৮-৫০, বিআর২৮ ৪৮-৫০ টাকায়, হাস্কি নাজির চাল ৪৪-৪৬ এবং পোলাও চাল খোলা মানভেদে ৮০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের চাল বিক্রেতা আতিকুল ইসলাম চালের দামের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ কিছুটা কম, তাই দাম সামান্য বেড়েছে। এ বছর দুর্যোগের কারণে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে ধান পানিতে ডুবে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে চালের দাম বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার চাল আমদানি করার ঘোষণা দিয়েছে। আমদানি শুরু হলে চালের দাম কমবে বলে আশা করা যায়।

নিউমার্কেট বাজারে চাল কিনতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলিম আতাউর জানান, গত কয়েক বছরে মোটা চালের দাম এতটা বাড়তে আমরা দেখিনি। অন্য বছর এ সময়টাতে মোটা চালের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা যেত। কিন্তু চলতি বছর মোটা চাল কিনতে ৪৫ বেশি গুনতে হচ্ছে। যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে আমাদের মত মধ্যবিত্তদেরই সবচেয়ে বেশি অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে রসুনের দামও বেশি। চলতি সপ্তাহে ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকায়। প্রতি কেজি চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪২০ টাকায়। তবে দেশি রসুন আগের দামে ১২০-২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লবণের দামও কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। তবে পেয়াজ ও আদা আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে আদা ১৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি ছোলা ৮৫-৯০ টাকা, মুগ ডাল ১২৫-১৩৫ টাকা, মাসকলাই ১৩০-১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫-১৩৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ লিটারের ভোজ্য তেলের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০-৫১০ টাকা; প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০-১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে সবজির দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি। প্রতি কেজি টমেটো ৬০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০, শশা ৪৫-৫০, চাল কুমড়া ৪০-৫০, কচুর লতি ৬০, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৬০, ঝিঙ্গা ৫০, চিচিঙ্গা ৫০, করলা ৫০, কাকরোল ৫০, আলু ১৮-২০, পেঁপে ৪০-৫০, কচুরমুখি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পালং শাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক প্রভৃতি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি আটি প্রতি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ২৫০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১৫০০ টাকা দরে।

চলতি মপ্তাহে মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া গরুর মাংস ৪৯০-৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০, দেশি মুরগি ২৮০-৪০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.