সাভার প্রতিনিধিঃ

সাভারে যুবলীগের কর্মী সি এম বাদশা ফয়সাল হত্যার ঘটনায় সাভার পৌরসভার কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লাকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত রোববার রাতে নিহত ব্যক্তির ভাই ফাহাদ হোসেন সাভার মডেল থানায় এ মামলা করেন।
পরেরদিন সোমবার মিনহাজ উদ্দিনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তাঁর স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর স্বামী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।
সম্মেলন শেষে কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লার অফিসের সামনে কিছু লোকজন নিয়ে তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার বিক্ষোভ করার প্রস্তুতি নেন সেসময় সেখানে অবস্থারত মিনহাজের লোক জনেরাই মিনহাজের বিচার চাই বলে শ্লোগান দিতে থাকে । এসময় নার্গিস আক্তার ও তার মেয়ের জামাই, সাংবাদিকদেরকে এই শ্লোগান না প্রচার করার জন্য অনুরোধ করেন ।
এদিকে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ফয়সাল বায়না সূত্রে পৌর এলাকার ভাটপাড়া মৌজায় ২৭ শতাংশ জমির মালিক। রোববার সকালে তিনি কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ওই জমিতে সীমানা খুঁটি স্থাপন করতে যান। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে মিনহাজ উদ্দিনের হুকুমে অন্তত ৩০ জন সশস্ত্র লোক ফয়সালের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁরা ফয়সালকে হত্যার উদ্দেশ্যে টেঁটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফয়সাল মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বিগত দিনে কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা মূলত ছিলেন বিএনপিতে, বিভিন্ন সময় গাড়ি ভাংচুর জমি দখল গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ তার নামে থানায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল হত্যার ঘটনায় পৌর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মিনাকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উলেক্ষ্য করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ভাই ফাহাদ হোসেন।
মামলা নম্বর ০৬,মামলার ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/ ৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬/৩৪। মামলায় আরও আসামী করা হয়েছে, ফেলু মিয়া ও তার চার ছেলে, এরা হলেন, শাজাহান মিয়া, লালু মিয়া, শফিজ উদ্দিন, রফিজ উদ্দিন ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর পুলিশ সোমবার ভোর রাতে মামলার প্রধান আসামী কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মিনাকে গ্রেফতার করতে জামসিং এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালায়। মিনহাজ বাড়িতে না থাকায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অন্যদিকে ঘটনার মূলহোতা টেউটি এলাকার আব্দুল কাদেরও ঘটনার পর থেকে আত্বগোপনে আছেন।

এব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.