‘ছোট নদীগুলোও বাঁচাতে হবে’

 ‘ছোট নদীগুলোও বাঁচাতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের ছোট ছোট নদীগুলোকেও বাঁচাতে হবে। প্রয়োজনে সেগুলোতেও ড্রেজিং করতে হবে।

আজ বুধবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) কার্যালয়ে ২০১৬ সালের জাতীয় পানি সম্মেলনের ফলাফল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশে টেকসই পানি সিস্টেমস: প্রাপ্যতা, ব্যবস্থাপনা, অগ্রাধিকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ, পিকেএসএফ এবং এনজিও ফোরাম।

পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ছোট ছোট নদীগুলোর নাব্যতা সংকটের কারণে একদিকে পানি সংকট ও অন্যদিকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আগে নদীগুলো খনন করতে হবে; পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সংকট কিছুটা হলেও কাটবে।

তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উপকূলীয় এলাকার নদীগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। জোয়ার-ভাটার নদীগুলোর মোহনায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে; এক পর্যায়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। জলাধার ভরাট হচ্ছে; সেখানে বসতি গড়ে উঠছে। ড্রেজিংয়ের মাটি রাখার জায়গাটুকুও পাওয়া যাচ্ছে না।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, পানি ও নদী ব্যবস্থাপনা জোরদার করা উচিৎ। একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই খাতে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় ঠিক সময়ে সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, সব কিছুর জন্য শুধু পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে দোষ দিলে চলবে না;  আমাদের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। একই সময়ে চিরাপুঞ্জিতে ১১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি; সিলেটে ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় হাওর এলাকায় বন্যা হয়েছে। ৯৩ শতাংশ অববাহিকার পানি ৭ শতাংশ অববাহিকা দিয়ে প্রবাহিত হলে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

পিকেএসএফ সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু পানির চাহিদা ৭ হাজার ৫৬৮ কিউসেক। আর মার্চ-এপ্রিলে পানির সংকট দেখা দেয়; উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুপেয় পানির তীব্র সংকটের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। মাছ ধরার জন্য নদীতে বেড়া দেওয়া হচ্ছে; বসতি গড়তে মাটি ফেলে নদী ভরাট করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষ সুফল পাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিউল আজম, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. নিলুফার বানু, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.