কাতার কি ফেরত পাঠাবে বাংলাদেশিদের?
0.0Overall Score
Reader Rating: (0 Votes)

ডেস্ক : সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এখন নানামুখী কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়েছে দেশটি। কাতারে কাজ করছে প্রায় তিন লাখের মতো বাংলাদেশি।

কাতার বাংলাদেশি বিশেষ করে শ্রমিকদের ফেরত পাঠাবে কিনা-তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় থাকেন বাংলাদেশি কর্মী কাজী মোহাম্মদ শামীম। তিনি বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিক যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে পুরোপুরি ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু গুজবও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশিরা কাতারে থাকতে পারবেন নাকি চলে যেতে হবে- এমন একটা ভীতি কাজ করছে তাদের মধ্যে। সৌদি ও দুবাই সরকার লোকজন নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে। তাই বাংলাদেশিদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।

মোহাম্মদ শামীম আরো বলেন, হয়তো বাংলাদেশিদের পাঠিয়ে দেবে কাতারে। শ্রমিকরা ভয় পাচ্ছে এত টাকা খরচ করে এসেছে এখন ফেরত পাঠালে পরিবার নিয়ে দেশে বিপদে পড়বে সবাই। অন্য দুই নির্মাণ শ্রমিক জানান, তাদের বলে দেওয়া হয়েছে আজ বুধবার থেকে যেন তারা কাজে না যায়। কাজী মোহাম্মদ শামীম যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সেখানকার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন তাদের পণ্য আসে দুবাই থেকে। সেটা এখন বন্ধ আছে। তাই তার কফিল (নিয়োগদাতা) বলে দিয়েছেন, ‘যদি এমন চলতে থাকে এবং স্টক শেষ হয়ে যায় তাহলে স্টোর বন্ধ করে দিতে হবে এবং তোমাকে চলে যেতে হবে। পরে যদি ভালো ফল আসে তখন দেখা যাবে। ‘

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফিলিপাইনের ২০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে। যাদের মধ্যে কাতারে আছে এক লাখ ৪০ হাজার বেশি শ্রমিক।  ফিলিপাইন সরকার চলমান সংকটে বিদেশে থাকা শ্রমিকদের ওপর ‘কি প্রভাব পড়ে’ তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশটির শ্রমমন্ত্রী সিলভেস্তার বেলো বলেন, পরিস্থিতির পূর্ণ মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।  চারিদিকে মারাত্মক সব গুজব শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, সেখানে কোনো কিছুই আর ঠিকঠাক নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফিলিপাইনের শ্রমিকরা সাধারণত গৃহকর্মী, জাহাজের ক্রু, নির্মাণ শ্রমিক এবং সেবিকা হিসেবে কাজ করে।

ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বৈদেশিক শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ তাদের মোট জিডিপির ১০ শতাংশ ছিল। অর্থের আকারে যা ২৬ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খাবারের দাম বেড়েছে
প্রতিবেশীরা সম্পর্ক ছিন্ন করায় কাতারের জন্য মূল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য সংকট। এই সংকট শুরু হওয়ার পর সেখানে অনেক মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনতে শুরু করায় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরব এবং দুবাই থেকে পণ্য নিয়ে মূলত কাতার ব্যবসা বাণিজ্য করে। কাতার প্রায় ৯০ শতাংশ খাবার আমদানি করে। যার বেশির ভাগই সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়। সম্পর্ক ছিন্নের কারণে কাতার খাদ্য সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সৌদি বর্ডার দিয়ে খাদ্যে আসতো কাতারে, সেটা বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই সুপার স্টোরগুলোতে খাদ্য মজুদ করা শুরু করেছে। খাদ্য সংকট এখনো শুরু না হলেও একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি চলছে। শামীম জানান, গতকাল সকালে আলু কেজিপ্রতি তিনি সাড়ে তিন রিয়াল দিয়ে কিনেছেন কিন্তু বিকেলে সে দাম বেড়ে হয়েছে পাঁচ রিয়াল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.