সুলতানা কামালকে দেশ থেকে বের করতে হবে

 সুলতানা কামালকে দেশ থেকে বের করতে হবে

কবির চৌধুরী তন্ময় : সুলতানা কামলামকে নিয়ে তথাকথিত হেফাজতিদের প্রপাগান্ডার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে আমাদের কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে। অনলাইন জগতে সাধারণ অনলাইন অ্যাকটিভিস্টরাও সেই চালানো প্রপাগান্ডায় নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে। আবার এনিয়ে-বেনিয়ে আমাদের সমাজ-সভ্যতার কিছু সুশীল সমাজের ব্যক্তিদেরও দেখেছি বলতে, এটা সুলতানা কামালের উচিৎ হয়নি! জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে- ঐ জনের কাছে শুনেছি বা ঐ জনের ফেসবুকে দেখেছি !!!

অদ্ভুধ ব্যাপার! আপনারা খন্ডিত বা বিকৃত তথ্যের উপর নির্ভর করে মন্তব্য করছেন কেন? নাকি এটাও কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ?

সেদিন টক’শো-তে মুফতি শাখাওয়াত বলছেন, ‘কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক’ থাকতে পারে না। এই কথার প্রতিউত্তরে সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘মসজিদ আছে কেন, ঈদগা আছে কেন? সেখানে যদি মসজিদ থাকতে পারে, মন্দির থাকতে পারবে না কেন?’
তার উত্তরে আবার মুফতি শাখাওয়াত বলেছেন, ‘অবশ্যই থাকবে। মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে… হিন্দুরা তাদের মতো করে পূজা করবে।’

এখানে সুলতানা কামাল আর মুফতি শাখাওয়াতের কথাগুলো সহজ করে বুঝতে আপনাকে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহুর্তে দৌঁড়াতে হবে না। এখানে একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, কোনও সম্প্রদায়ের প্রতীক থাকতে পারে না মুফতি শাখাওয়াতের এই মন্তব্যটি পরিস্কার করে বুঝানোর জন্য সুলতানা কামাল বলেছেন, এখানে মুসলমানদের মসজিদ আছে, ঈদগা আছে, মন্দির থাকতে পারবে না কেন? কোনও সম্প্রদায়ের কিছু যদি না থাকে তবে তো মসজিদও থাকার কথা না, ঈদগা থাকার কথা না…। ‘কোনও সম্প্রদায়ের কিছু থাকবে না’।

অথচ দুঃখজনক হলো, টক’শো-তে থাকা মুফতি শাখাওয়াত তখন সুলতানা কামালকে ব্যক্তিগত আঘাত করে ধর্মদ্রোহী বা ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে তখন কোনও মন্তব্য না করলেও যতসব আমাদের মত কিছু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়েছে। যা সত্যিই হাস্যকর।

একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করা সভ্যতার অংশ নয়। যৌক্তিক ও তথ্য নির্ভর আলোচনা-সমালোচনা করার মাধ্যমে আপনার ব্যক্তি পরিচয়কে যেমন ফুটিয়ে তোলে। আপনার নিজের প্রকৃত অবস্থানও পরিস্কার করে। আপনার চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর এগুলোর মাধ্যমেই অপরজন আপনাকে বিচার-বিশ্লেষণ করে মুল্যায়ণ করে।

হেফাজত অন্য কোনও গ্রহ থেকে আসেনি। তাঁরাও বাংলাদেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন অপসংস্কৃতি আর ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে চলে আসা ভ্রান্ত ধারণার একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। অনেক দিন ধরেই এই অপসংস্কৃতি বা ভ্রান্ত ও অন্ধকার জগত থেকে তাঁদের বের করে আনার জন্য সরকার নানাবিধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এটা সরকারের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য।

আর আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে সুলতানা কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিঁনি তখনকার আগরতলার বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালেরও একজন যোদ্ধা। আবার যুদ্ধে আহত অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা প্রদান করেছে এই সুলতানা কামাল।
আর অন্যদিকে হেফাজতের তখনকার ভূমিকা কী ছিলো? শফি হুজুর সরাসরি রাজাকার বা আল-বদর বাহিনীতে স্বক্রিয় ছিলো। ৫ মে’র মাধ্যমে তাঁদের আসল চরিত্রটি ফুটে ওঠেছে। তাঁরা পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে যুবলীগের উপর দোষ চাপিয়েছে। হাজার হাজার হেফাজতিদের হত্যার প্রপাগান্ডা চালিয়ে শেখ হাসিনা ও সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশ মিথ্যাচার করেছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালাকে কেটে তছনছ করে দিয়েছে।

খালেদা জিয়ার আহবান আর জামায়াতের চক্রান্তের কথা এতো তাড়াতাড়ি আপনারা ভূলে গেলেন ?

আপনাদের অনেকের অনুভূতি নিয়ে আমার মাঝে-মাঝে সত্যিই করুণা হয়। যেখানে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী বলেন, (https://goo.gl/GKdDtA) ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি কলা ঝুলিয়ে মুলা খাওয়ালেন। তিন চারজন লোকের কারণে আপনার ভোট বাক্স কমছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে আশা করবেন না। আগামী নির্বাচনে স্বয়ং মোদি এসে আপনাকে ক্ষমতায় বসাতে পারবেন না।’-তখন কারো কোনও প্রতিক্রিয়া দেখি না। প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য কেউ মামলাও করেন না।

বন্ধুগণ! আওয়ামী লীগ আবেগ আর শ্রদ্ধায় জায়গা হলেও কৌশল আর সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারলে, মুক্তিযুদ্ধের মুল আদর্শের পথে না চললে ক্ষমতা তো দূরের কথা; এই আপনি-আমি বা আমাদের টিকে থাকাটাই জীবন-মৃত্যুর সন্নিকটে।

সুলতানা কামালকে দেশ থেকে বের করতে হবে- এই মন্তব্যটি করার আগে একবার ভাবুন আপনি কার পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন? দেশ ও জনগণকে কোন অন্ধকারে নিমজ্জিত করার স্বপ্ন দেখছেন? নিজেকে প্রশ্ন করু এবং আপনার মতামত দিন-

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.