মহসীন সৈকতের দু’টি কবিতা

 মহসীন সৈকতের দু’টি কবিতা

শুধু বদলে যায়

ক্ষুধার জন্য
দীর্ঘ এ পৃথিবীর মানচিত্রই যথেষ্ট, তাকে
ছিড়ে ছিড়ে খাদ্য তালিকায় লিখে নিতে পারি
অনেক – অনেক নাম ।

ক্ষুধার্ত আত্মার জন্য
সৌরলোকের সবটুকুই যথেষ্ট নয় কখনো
সর্বগ্রাসী যন্ত্রণা নেভাতে পারে না
কোনো মহাসাগর কিংবা ঝরনার জল —

মানুষের নির্মিত পিড়ামীড
মানুষের নির্মিত স্বর্গনরক
মানুষের অর্জিত ধর্মাচার,
একদিন তুচ্ছ হয়ে যায় —
আবার ফিরে আসে অসংখ্য রীতি – নীতি
শুধু দিনধারা কেবলি বদলে যায় –
শুধু বদলে যায় হৃদয়ের আপন মানুষ — !!

 

একা, একা

রৌদ্রাবতী —
এই পড়ন্ত বিকেল ধরে রেখেছো-কার জন্যে?
আমি জানি, ঐ চোখ দুটো খুঁজে খুঁজে হয়রান
ফিরে আসে আমারই মনের ছাঁয়ায়
অনাকাঙখিত সময়কে কাছে টেনে এই
বৃন্দাবনের ঘাসে বিন্দু বিন্দু জল নেমে আসে
মহুয়া মাতাল বুকের স্তনে
উড়ন্ত জোৎস্নায় দাউ দাউ
নীলাম্বরী গাঁয়ের কুমারী।
এও আমি জানি –

সেই আততায়ী কি প্রেমিক ?
বুড়িগঙ্গার তীরের ডালিমকুমার
রাজ্যাসন ছেড়ে যে প্রার্থিত হবে
কঙ্কাবতীর প্রেমার্ঘে ?

দ্যাখো, ফিরে চাও
এই নাও স্বপ্নসমুহ অফুরন্ত পরান
তুলে দিলাম তোমায়
তোমার পদতলে, সোপার্জিত
মন্দিরের মোহনায় – স্তন সুচাগ্রে
আমার অভিমানী চুম্বন রাখা
গোপন উরুতে —

এই ধুসর সন্ধ্যায়
কি করে খুঁজে পাবে তারে ? সোনার মানুষ
বাতাসে বাতাসে গান গেয়ে ফেরা
অচেনা বনের পাখি
শিশির সিক্ত সকাল —

রৌদ্রাবতী, তুমিও কী এই পড়ন্ত প্রহরে
ডুববে জলে,
সেই সোনার মানুষের বুকের অন্ধকারে
একা, একা । কাউকে না জানিয়ে —?

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.