কিছু মুসলমানের অদ্ভুধ ধর্মীয় অনুভূতি

 কিছু মুসলমানের অদ্ভুধ ধর্মীয় অনুভূতি

কবীর চৌধুরী তন্ময় : আমাদের কিছু মুসলিম তৌহিদি ভাই-বোনদের ঈমান এতোই ঠুনকো যে, কিছু থেকে কিছু হলেই তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। কোরআন শরীফে বার বার নিষেধ করার পরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বোমা মারে, জঙ্গি কর্মকান্ড পরিচালনা করে, মানুষ হত্যা করে, নারীদের যৌনদাসী বানায়, নারীর অধিকার, শিক্ষা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা হরণ করতে যত রকমের ভূয়া ফতোয়া আছে; তা ইসলাম পরিপন্থী হলেও দিতে ভুল করে না।

একটু লক্ষ্য করলে দেখবে, এই বর্বর লোকগুলো নাকি ইসলামের হেফাজত করে। ইসলাম প্রচার-প্রকাশ এবং মুসলমানের সংখ্যা বাড়াতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে দেশে-দেশে জঙ্গি হামলা চালায়। এঁরা আবার কোরআনকে ইসলাম থেকে আলাদা করার ফতোয়া দেয়। বলে, কোরআন এক আর ইসলাম আরেক।

সাম্প্রতিক লন্ডন হামলা ঘটনার দুই জনের নাম প্রকাশ করেছে। এঁরাও মুসলমান।
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, এঁরা অন্য ধর্মের লোক নয় কেন? অন্যান্য ধর্মের লোকদের কী সংখ্যা বাড়ানোর দরকার নেই? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসার দরকার নেই? তাঁদের ধর্মে কী মদ, জুয়া, সুদ, ব্যভিচার নিষিদ্ধ নয়? তাহলে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে না কেন?

এই ধরনের অনুভূতিযুক্ত মানুষগুলোর ব্যাপারে একটু খেয়াল করলে দেখবেন, যখন কোনও মসজিদে পড়তে আসা ছোট্ট কন্যাশিশুকে ঈমান ধর্ষণ করে তখন চুপ করে থাকে। বায়তুল মোকাররম কিংবা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ঐ ঈমামে বিচার দাবি করে না।
হজ্বের ব্যাপারে লতিফ সিদ্দিকী বললে তাঁর ফাঁসি চায় কিন্তু যখন সৌদি সরকার বলে, হজ্ব ব্যবসাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে; তখন তাঁদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত লাগে না। যখন সৌদি যুবরাজ জুয়া খেলে তাঁর সকল সম্পদ বাজিতে হেরে শেষে পাঁচ স্ত্রীকে জুয়ায় বাজি ধরেও হারার পর তখন এই ধরনের মানুষগুলোর ধর্মীয় অনুভূতি কাজ করে না। যখন এই সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত বিশ্ব মোড়ল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলে আল্লাহ’র প্রেরিত দূত তখন তাঁদের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায়।

বিশ্বে এই ধরনের অনুভূতিগুলোর মানুষ বেশি পাবেন প্রথম পাকিস্তানে, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে মনে হয়। সুলতানা কামালের কথায় এই ধরনের মানুষগুলোর অনুভূতি এতো বেশি কাজ করে তেতুলের টকের মতন। লতিফ সিদ্দিকীর কথায় দিশেহারা হয়ে ওঠে মুর্খের জ্ঞানের মতন।
বেশি দূর যাওয়া লাগবে না- এই অনুভূতিযুক্ত মানুষ আপনার ফেসবুকে যেমন আছে তেমনি আপনার পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু মহলেও বিদ্যমান।

ফেসবুকের প্রোফাইল ঘুরলে দেখবেন, একপাশে কোরআন, আরেক পাশে পর্ণসাইট পাশাপাশি সাজিয়ে রেখেছে। যত অশ্লীল ভিডিও সাইট আছে সেগুলোতে তার যে অবাত যাতায়াত আছে তাও লক্ষ্য করতে পারবেন।
আর ব্যক্তি জীবনে লক্ষ্য করলে দেখবেন, লেখাপড়া কোনো রকমের! এই ধরুন মক্তব…!!! তাঁরা আপনাকে ইসলাম বুঝাতে আসবে। নামাজের ফজিলত বুঝাতে চেষ্ঠা করবে। আর সমাজে যত আকাম-কুকাম আছে, অতীতে সবগুলোই স্পর্শ করে এখন নিজে ভদ্রলোকের মুখোশ পড়ে আপনাকে সাজেশন দিচ্ছে।

এই ধরনের মানুষগুলোর ধর্মীয় অনুভূতি শুধু শান্তির ধর্ম ইসলামকেই বিতর্কিত করে না, স্বয়ং মানুষ মানবতাকে ধ্বংস করে যা আমাদেরই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। আপনারা কী বলেন…?

(লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত)

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.