আকাশসীমা ব্যবহারেও কাতারের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা

 আকাশসীমা ব্যবহারেও কাতারের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক : কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণার সময়ই সৌদি আরব, মিশর দেশটির সঙ্গে আকাশ ও নৌপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ঘোষণা দেয়। গতকালের এই পদক্ষেপের পরে দেশ দুইটি কাতারের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিল।

মঙ্গলবার আস্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশ দুইটি এবার কাতার এয়ারলাইনসের ওপর  তাদের আকাশ সীমানা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তবে কাতার এই পদক্ষেপকে বিবেচনা বর্হিভূত সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দোহার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট বা ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাদের কোনো আতাত নেই। তারা কোনো চরমপন্থী সংগঠনকে মদদ দিচ্ছে না।

এদিকে কাতারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতির পর সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ, গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থীদের মদদের অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। এর কিছু পরেই ইয়েমেনও একই ঘোষণা দেয়।

গতকাল কাতারের এই প্রতিবশেী দেশগুলো স্থল, নৌ ও আকাশ পথে সব ধরনের যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দেয়।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, সন্ত্রাসের হাত থেকে সৌদির জাতীয় সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাতারের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী চরমপন্থীদের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে ২০১৪ সালেও একবার সৌদি আরবের নেতৃত্বে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আবুধাবী ও সংযুক্ত মানামা।

রিয়াদের অভিযোগ, সৌদির কোয়াতিফ প্রদেশ এবং বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থ ও তথ্য দিয়ে মদদ দিচ্ছে কাতার। কাতারের এই কর্মকাণ্ড দেশগুলোর নিরাপত্তা ও ঐক্য ধ্বংস করছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে বিবিসি বলে, মিশরও কাতারের সঙ্গে বিমান ও নৌপথের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আজ সকাল থেকেই মিশরের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর থেকে কাতরের উদ্দেশ্যে কোনো বিমান বা জাহাজ ছেড়ে যায়নি।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার দেশে থাকা কাতারের কূটনৈতিকদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমিরাত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আবুধাবীর অভিযোগ, কাতার তাদের দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়ানোর জন্য ইসলামী চরমপন্থীদের মদদ দিয়ে আসছে।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ঐক্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী সন্ত্রাসীরা। আর তাদেরই মদদ দিচ্ছে কাতার।

এর কয়েক দিন আগেই সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরে  সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা নিষিদ্ধ করে। তখন অভিযোগ করা হয় কাতারের রাষ্ট্রীয় মদদে আল জাজিরা ইসলামীক স্টেট, ব্রাদারহুড ও আল কায়দার মতো সংগঠনগুলোকে মদদ দিচ্ছে।

তখন বলা হচ্ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে কাতার।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.