মহাকাশে ব্র্যাকের ন্যানো স্যাটেলাইট

 মহাকাশে ব্র্যাকের ন্যানো স্যাটেলাইট

ডেস্ক : মহাকাশে ন্যানো (ক্ষুদ্রাকৃতির) স্যাটেলাইটের যুগে নাম লেখালো বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ ষ্টেশনে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ যুক্ত হওয়ার আগেই যুক্ত হলো বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ক্ষুদ্রাকৃতির কৃত্রিম উপগ্রহ কিংবা ন্যানো স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইটের গবেষক ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী কাফি, মাইসুন ও অন্তরা।

তিন গবেষক

গত বছরের জুনে কৃত্রিম উপগ্রহটি বানানোর জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (কিউটেক) সঙ্গে চুক্তি হয়। পরবর্তীতে কিউটেকের ল্যাবরেটরি অব স্পেস ক্র্যাফট এনভায়রনমেন্ট ইন্টারঅ্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তত্ত্বাবধানে এটা বানানোর কাজে যুক্ত হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। ন্যানো স্যাটেলাইটটির নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত কাঠামো তৈরির সব কাজই করেন এই শিক্ষার্থীরা। চূড়ান্ত কাজ শেষ হলে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তা মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ন্যানো স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই মহাকাশ থেকে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, নদী, ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে নগর-পাহাড়-সাগর -সবকিছুরই পর্যায়ক্রমিক আলোকচিত্র পাওয়া যাবে।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ স্যাটেলাইটটি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত তিন শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান এবং আশাবাদ ব্যাক্ত করেন, শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। এছাড়া ফজলে হাসান আবেদ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন,বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে কেবল গবেষণার জন্য মোট জিডিপির ৩ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ রাখা হয়। বাংলাদেশে সেটা সম্ভব না হলেও জিডিপির অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা উচিত। এই প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর খলিলুর রহমান বলেন এই স্যাটেলাইটটি মূলত তিন ধরনের কাজ করবে। মহাকাশে পরিভ্রমণরত স্যাটেলাইটটি চিহ্নিত করে এর থেকে তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ, স্যাটেলাইটটি কীভাবে, কী কাজ করবে তার নির্দেশনা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, এই ন্যানো স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন ও তৈরি করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এই গ্রাউন্ড স্টেশন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দুটি স্যাটেলাইট তথ্য গ্রহণ করা শুরু করেছে। ব্র্যাক অন্বেষা স্যাটেলাইটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে  ৪০০ কিলোমিটার ওপরের কক্ষপথে উৎক্ষেপণের পর এটি প্রতিদিন ১৬ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ঘুরে যাবে দিনে চার থেকে পাঁচবার। এ সময় কৃত্রিম উপগ্রহটি থেকে ছবিও ডাউনলোড করা যাবে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.