আদালত প্রতিবেদক : গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে চেম্বার জজ আদালতের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এ সময় বিচারপতি  জানান গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারে, তাতে বিচার বিভাগ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ গত ৩০ মে স্থগিত করেছিল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয় চেম্বার আদালত।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে দুই ধাপে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন স্থপতি মোবাশ্বের হাসান।

২৮ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানিতে জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জানান, সোমবার প্রধান বিচারপতি বলেন, যেহেতু সরকার একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

তিনি জানান, জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তির নির্দেশও দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

উল্লেখ্, প্রথম দফায় ১ মার্চ থেকে গ্যাসের মূলবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়। প্রথম দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর এক চুলার গ্যাসের মূল্য ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় জুন থেকে এ মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৯০০ ও ৯৫০ টাকা।

এছাড়া প্রথম দফায় গৃহস্থলীতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বিল প্রতি ঘনমিটার সাত টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সা।

গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রথম ধাপে ৩৮ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রথম দফায় প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম আট দশমিক ৩৬ টাকা থেকে আট দশমিক ৯৮ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৯ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

শিল্পে বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বাবদ ৬ দশমিক ৭৪ টাকা দিতে হলেও মার্চ থেকে ৭ টাকা ৪২ পয়সা এবং জুন থেকে ৭ টাকা ৭৬ পয়সা পরিশোধ করতে হচ্ছে। চা বাগানে গ্যাসের দাম ৬ দশমিক ৪৫ টাকা থেকে দুই দফায় বেড়ে ৭ টাকা ২৪ পয়সা হয়।

এছাড়া বাণিজ্যিক খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে প্রথম দফায় ১৪ টাকা ২০ পয়সা ও দ্বিতীয় দফায় ১৭ টাকা চার পয়সা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.