প্রতিদিন টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের ২০১৭-১৮ মেয়াদের তিনটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ জুলাই। গত রবিবার বেসিস নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৬-১৯ মেয়াদের নির্বাহী কমিটির প্রথম বছর পূর্তিতে তিনটি পদের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালকের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সোমবার এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। তিনি বেসিসের সংঘবিধি মেনে নির্বাচন করার জন্য আপিল বোর্ডের চেয়াম্যান এ তৌহিদের কাছে আবেদন করেন।

বেসিস সভাপতি আবেদনে জানান, ‘বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালক গত ২৫ মে বেসিসের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন ওই চিঠিকে উপেক্ষা করে নির্বাচনের মনোনয়ন ও পরিবর্তিত তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা করছে। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন বেসিসের সংঘবিধির ১২.৫, ১৪.৪ ও ১৪.৫ ধারা লঙ্ঘন করার পাশাপাশি বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটা অবৈধ নির্বাচনের আয়োজন করছে।’

উত্তরে গতকাল মঙ্গলবার আপিল বোর্ডের চেয়াম্যান বেসিস সভাপতিকে লিখিতভাবে জানান, ‘২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর বেসিস নির্বাহী পরিষদের ২৩৯তম সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বেসিস সংঘবিধি ও সংঘস্মারক সংশোধনের প্রয়োজন নেই। এই প্রস্তাবটি আপনি নিজেই করেন, কেননা এই ধারাগুলি ডিটিও সংশোধন করেছে এবং অ্যাসোসিয়েশনের ধারার সঙ্গে কোনো ধারার অসঙ্গতি থাকলেও ডিটিওর ধারা প্রযোজ্য হবে।’

আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো জানান, ‘এরপর নির্বাহী পরিষদ আপনার নেতৃত্বে ২০১৭-১৮ সালের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করে।’

এ তৌহিদের জনান, ‘তিন সদস্যের আবসর গ্রহণ সম্বন্ধে আপিল বোর্ড ডিটিওতে চিঠি লিখে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসারে গত ১৫ মে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, লটারিতে আপনার নাম অবসর গ্রহণ সদস্যের মধ্যে আসার পরই আপনি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করছেন এবং এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করছেন। এটা আপনার পূর্বের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী’

বেসিস নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এস এম কামাল জানান, ‘নানা কারণে আমরা দুইদিন পিছিয়ে গিয়েছিলাম। তবে নির্বাচন ৮ জুলাইয়ে হচ্ছে।’

তিনটি পদে মনোনয়ন জমা নেয়া শুরু হয়েছে গত রবিবার। জমা দেয়ার শেষ তারিখ আগামী ১০ জুন।

প্রসঙ্গত, বেসিসের তিন বছর মেয়াদি নয় সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে প্রতিবছর তিনজন করে সদস্যের অবসর নেওয়া এবং সেই তিন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। ২৩ মে লটারি করে তিনজনকে অবসর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে বেসিসের সভাপতি ২৪ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালকের (ডিটিও) কাছে চিঠি লেখেন এবং পরপর তিন মেয়াদে কমিটিতে থাকা তিন সদস্যকে অবসর দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার আবেদন করেন।

অন্যদিকে ২৫ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বেসিসের সংঘবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.