প্রাধ্যক্ষ লোপাট করলেন ঢাবি শিক্ষার্থীদের ইফতারের প্যাকেট!

 প্রাধ্যক্ষ লোপাট করলেন ঢাবি শিক্ষার্থীদের ইফতারের প্যাকেট!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রাবাস মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল (জিয়া হল) এর প্রাধ্যক্ষ ও ঢাবির ক্রিমিনোলজি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের (জিয়া রহমান নামে পরিচিত) বিরুদ্ধে হলের ইফতার মাহফিলের ইফতারির প্যাকেট লোপাটের অভিযোগ করেছে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার জিয়া হল কর্তৃপক্ষ হলের প্রত্যেক সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি রমজানের ন্যায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের জন্য ইফতারের প্যাকেটের ব্যবস্থা করলে সেখান থেকে শতাধিক প্যাকেট কর্মচারিদের সহায়তায় প্রভোস্ট জিয়া রহমান নিজের জন্য সরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

এরই জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় জিয়া হলের সব শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে হলের প্রবেশদ্বারে অবস্থানরত প্রাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমানকে ঘেরাও করে তাঁর বিরুদ্ধে মিছিলের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইউসুফ উদ্দিন খান অপূর্ব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জিয়া রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে স্যার ইফতারির শতাধিক প্যাকেট লুট করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার মাধ্যমে নিজের শিক্ষক মর্যাদাকে অসম্মান ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে তার এমন আচরণ আমাদের মর্মাহত করেছে।

জিয়া হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী প্রভোস্টের অতীত কালের সমন্বয়হীন প্রশাসনিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রভোস্ট স্যার আজকে রোজাদার শিক্ষার্থীদের মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে মানবতার সীমা লংঘন করেছেন। শিক্ষক হবেন পিতা মাতার পরিপূরক অথচ তিনি সব শিক্ষার্থীকে ইফতার না দিয়ে একশো প্যাকেটের বেশি ইফতার নিজের বাসায় নিয়ে গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের প্রভোস্ট স্যারকে হলের কোন কাজেই পাওয়া যায় না। তবে তাকে পাবেন টক-শোতে, বিভিন্ন লাভজনক কাজে পাবেন। তার দায়িত্বকালে জিয়া হলের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি বাজে হয়েছে। হলের সেনিটেশন সমস্যা, প্রায়ই বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা, পানির সমস্যাসহ হলটিকে নানবিধ সমস্যায় ফেলে রেখেছেন তিনি। ছাত্রলীগের ঊনিশদফা শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচীতে তিনি হলের সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোন বাস্তবায়নই হয়নি। এখনো হলের কোন ফ্লোরে ময়লা ফেলার বিন স্থাপন করেননি, বৃষ্টিতে ভিজে খাবার খেতে হয়। হলের খাবার দোকানের ছাউনি বড় করার কথা থাকলেও তিনি সে কথা রাখেননি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এ শিক্ষার্থী আরো জানান, জিয়া হলের পাশেই হলের কর্মচারীদের কোয়ার্টার আর প্রভোস্ট স্যার হলের ছাত্রদের সুবিধার কথা চিন্তা না করে হলের দক্ষিণ-পূর্বপাশে একটি দেয়াল দিয়ে হলটিকে কয়েদখানা বানিয়ে রাখছেন। এতে মূল প্রবেশদ্বার দিয়েই হাজার হাজার জিয়া হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এদিকে হলের পাঠকক্ষ (রিডিংরুম) মূল প্রবেশদ্বার সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত মানুষের যাতায়াতের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ক্ষতি হয়। এমতাবস্থায় নির্মিত দেয়ালটিতে একটি বিকল্প প্রবেশপথ নির্মাণের দাবি জানালেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি তিনি সব সময় উদাসীন থেকেছেন।

এদিকে একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, জিয়া হলের কয়েকজন কর্মচারী প্রায় ৪৫-৫০টির মতো প্যাকেট অধ্যাপক জিয়াউর রহমানের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে ভরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়া হল প্রাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে স্বশরীরে থেকে আজ খাবার বিতরণ করেছি। তবে ২০টি প্যাকেটের মতো ঘাটতি ছিল। পরে আরও প্যাকেট এনে সবাইকে পরিবেশনের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, একটি আইটেম ঘাটতি ছিল এছাড়া আমরা সব খাবার দিয়েছি। আমাদের একজন হাউজ টিউটর নিজেও খাবার পাননি। আসলে সব সময় তো সব কিছু শতভাগ সঠিক করে করা সম্ভব হয় না।’

অধ্যাপক জিয়া বলেন, ‘আমাদের হলের ছেলেরা ৪০০ কুপন নিয়েছে। ধারণা করছি, প্যাকেট অনেকগুলো বেচে যাবে। তাই বাইরে দিয়েছি। আমরা এমন নেই যে ছাত্রদের রেখে খাবার খেয়ে ফেলব।’

নিজের গাড়িতে করে অর্ধশতাধিক প্যাকেট নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাউজ টিউটরদের বাসায়, ভিসি ও প্রো-ভিসির বাসায় খাবার পাঠানো হয়েছে।’ সব হল থেকে খাবার পাঠানোর নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিসি, প্রো-ভিসিরা তো সব খাবার খান না। তাদের কর্মচারীরা খায়। তারা নিতে পারেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমি মাত্রই জানলাম বিষয়টি। আমি খবর নিয়ে দেখছি। শিক্ষার্থীদের বরাদ্দের খাবার তাদের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিছুতেই হলের বাইরে যেতে পারে না।’

উল্লেখ্য, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ১ জুলাই। কিন্তু সে সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আগেই বুধবার ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে জিয়া হলের আবাসিক ছাত্রদের ঢাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর খাবার অগ্রিম পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানায় হল প্রশাসন।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.