চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড

 চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : যে কোনো বিবেচনায় আজ ব্রিটেনের কেনিংটন ওভালে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে মাশরাফিরা। কারণ প্রায় এগার বছর পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০০৬ সালের আসরে খেলেছিল তৎকালীন অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। লম্বা সময় পর আজ বৃহস্পতিবার কার্ডিফে টুর্নামেন্টের নবম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে টাইগাররা। অবশ্য প্রায় একমাস ধরে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করা বাংলাদেশ নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটিতে লজ্জাজনকভাবে হারের ক্ষত নিয়ে আজ মাঠে নামছে টুর্নামেন্টের মূল লড়াইয়ে।
যদিও এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বেশ ভালই খেলেছিল টাইগাররা। কিন্তু শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি সব কিছু এলোমেলো করে দিল। তারপরও নতুন টুনামেন্ট, নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরুটাও নতুন করে করতে চায় বাংলাদেশ। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড। ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড দু দলই।
২০০৬ সালে যখন সবশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছিল বাংলাদেশ তখন সবার কাছে একেবারে সহজ এক প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু সে দিন এখন আর নেই। বাংলাদেশ এখন আর জায়ান্ট কিলার নয়। নিজেরাই জায়ান্ট। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই বদলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টাইগারদের পারফরমেন্সের গ্রাফটা উর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে রানার্স-আপ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে লন্ডনে পা রাখে মাশরাফিরা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের বড় সাফল্যে ছিল টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারানো। এই জয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এ সাত নম্বর থেকে ছয় নম্বরে উঠে আসে টাইগাররা। তাই শতভাগ প্রস্তুত হয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ। তবে ছোট্ট একটা ক্ষত হয়তো থেকে যাবে। আর তা হলো শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া। এই ম্যাচটি হয়তো বার বার ভেসে উঠবে টাইগার ক্রিকেটারদের মনে। তবে টাইগার দলপতি জানালেন সে ম্যাচের স্মৃতি তারা সে দিনই ফেলে এসেছে। এখন তাদের লক্ষ্য টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটির দিকে।
তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে দু’টি অনুশীলন ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪১ রান করেও ২ উইকেটে ম্যাচ হারে টাইগাররা। আর গত মঙ্গলবার ভারতের দেয়া ৩২৫ রানের টার্গেটে ৮৪ রানেই নিজেদের গুটিয়ে নেয় বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচে হার আত্মবিশ্বাসের জন্য একদিক থেকে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ। আবার গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচেও যে হেরেছিলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের কাছে ৩ উইকেটে ও আয়ারল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল টাইগাররা। আর শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মুশফিকের দল।
অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইংল্যান্ডের মত দলকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল টাইগাররা। যেটি ইতিমধ্যেই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ম্যাচের একটি হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই সেই ইংল্যান্ডের সামনে বাংলাদেশ। আর এবারেও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পরের রাউন্ডের পথে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ।
বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য বাংলাদেশের রয়েছে। আর সেটা অতীতেও অনেকবার দেখিয়েছে টাইগাররা। তবে অতীত থেকে প্রেরণা নিতে চান কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চানান টাইগার দলপতি। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিটি দিনই নতুন। প্রতিটি মুহূর্ত নতুন। আর প্রতিটিা ম্যাচেই নতুন করে শুরু করতে হয়। নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়। তাইতো আজকের ম্যাচকে ঘিরেও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। আর সে পরিকল্পনার প্রধান অংশ হচ্ছে জয়। তবে ইংল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে এই জয়টা যে একেবারে সহজে আসবে না সেটা বেশ ভালই জানা টাইগারদের। তাইতো জিততে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন বিভাগেই জ্বলে উঠতে হবে বাংলাদেশকে।
ব্যাটিং-এ যেমন হাল ধরতে হবে তামিম ইকবাল, সাব্বির, সৌম্য সরকার, মুশফিক কিংবা সাকিব মাহমুদুল্লাহদের। তেমনি বল হাতে বড় রোলটা প্লে করতে হবে মোস্তাফিজকে। ইংল্যান্ডের উইকেটে বিশেষ করে আজকের ম্যাচের ভেন্যু ওভালে পেসাররা কি করতে পারেন সেটা আগের দিন ভারতের পেসাররা দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই মোস্তাফিজের পাশাপাশি রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ কিংবা অধিনায়ক মাশরাফিকে সঠিক জায়গায় বলটা ফেলতে হবে। যদিও তাসকিন যেন বল কারাটাই ভুলে গেছেন। আর স্পিনারদের নেতৃত্বে বরাবরের মতই সাকিব আল হাসান প্রধান ভরসা। তার সাথে যদি সানজামুল কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বলে উঠতে পারে তাহলে সুখ স্মৃতি নিয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ করতে পারবে টাইগাররা।
অবশ্য এ মুহূর্তে একেবারেই ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে গত আসরের রানার্স-আপ ইংল্যান্ড। চলতি সপ্তাহেই দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। তাই আত্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে টইটুম্বর হয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়তে নামবে ইয়োইন মরগানের দল। সে সাথে নিজেদের চেনা কন্ডিশনের সুবিধা তো থাকছেই। আবার পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষে কথা বলে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৯ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড। এরমধ্যে ইংলিশদের জয় ১৫টি। আর বাংলাদেশের জয় ৪টি। তবে আইসিসি নকআউট বা চ্যাম্পিয়ন্সন্ত্রফিতে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিলো এই দুই দল। ২০০০ সালের দ্বিতীয় আসরে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ঐ ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছিলো ইংলিশরা। তবে ইতিহাস বদলানোরও নজিরও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.