নিজস্ব প্রতিবেদক : জৈষ্ঠ্যের অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতেও গরমে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের। রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণে এই অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে। এ তাপপ্রবাহ আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী তিন-চারদিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, তাই গরমে কষ্ট পেতে হবে আরো কয়েক দিন। অনেকেই গরম থেকে বাঁচতে ডাব, শরবতসহ বিভিন্ন পানীয় পান করছেন। এদিকে গরমে পেটের পীড়া, জ্বরসহ ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রিকে মৃদু, ৩৮- এর বেশি থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাঝারি ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এ হিসাবে বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, মাঈজদিকোর্ট ও বরিশাল অঞ্চলসহ ঢাকা ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি তীব্র এবং অন্যত্র দুই থেকে তিনটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোর ও খুলনাতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সোমবার রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য জায়গায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়া, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরম বেশি লাগছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশের ঠিক উপরের কর্কটক্রান্তি রেখা ধরে সূর্য ওঠানামা করে এ সময়ে। তাই সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানগত কারণে এ সময়ে বাংলাদেশে তাপমাত্রা বছরের সর্বোচ্চ থাকে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোটামুটি এ অবস্থাই থাকবে। তবে কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার হতে বৃষ্টি হতে পারে। তখন তাপমাত্রা কমে আসবে। গত বছর ২০ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছর ২০ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এই সময়ে তাপমাত্রা বেড়েছে।

এতে গরমে ঘরে ঘরে পেটের পীড়া, জ্বরসহ ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের রোগ। এ থেকে রক্ষা পেতে করণীয় সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, গরমে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি। এ কারণে মশার উপদ্রপ বেড়েছে। মশার কারণে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতো রোগ হচ্ছে। এছাড়া হঠাৎ করে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে কল-কারখানায় যারা কাজ করেন, রোদে রাস্তাঘাটে বের হন তারা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য সচেতন থাকতে হবে। গরম থেকে বাঁচতে ডাবের পানি, বাসায় তৈরি শরবত ও ওরস্যালাইন খাবার পরামর্শ দেন বিশিষ্ট এই চিকিৎসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.